ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা: আজকের এই লেখায় তোমরা শিখতে পারবে ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা, যা ২০ পয়েন্ট ও ১৫ পয়েন্ট আকারে লেখা হয়েছে। তোমাদের ক্লাস উপযোগী যেকোন একটা নমুনা আয়ত্ত করলেই পরীক্ষায় ভাল করতে পারবে। তাহলে শেখা শুরু করে দাও এখনি।
| পোস্টের বিষয়বস্তু | রচনা লিখন |
| রচনার টপিক | ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য/ ছাত্রজীবন |
| প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহ | ক্লাস ৬, ৭, ৮,৯,১০, এসএসসি |
| নমুনা আছে | ২টি |
ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা – ক্লাস ৬, ৭, ৮
ভূমিকা : সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে জমে পড়ার আগে মানুষ বিদ্যাজ্ঞানের জন্য তার জীবনের যে অংশটুকু স্কুল, কলেজ বা এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিবাহিত করে, তাকে ছাত্রজীবন বলা হয়। ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের মূল ভিত্তি। তেমনি ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের রয়েছে অপরিসীম দায়িত্ব ও কর্তব্য। আধুনিক বিশ্বের ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অসংখ্য হলেও তা আর সীমাবদ্ধ নয়, তেমনি আমাদের দেশের ছাত্রসমাজের পক্ষেও দরকার হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নতুনভাবে দায়িত্ব পালন।
ছাত্রজীবনের মৌলিক দিক : ছাত্রজীবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ছাত্রজীবনের শুরু জীবনের প্রকৃতির কাল বলা যায়। কাজেই জীবনকে প্রকৃত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে মনোযোগের সঙ্গে শিক্ষা ও সুস্থ অভ্যাস আয়ত্ত করা এবং সেই সঙ্গে উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে নিজেদেরকে গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়। ছাত্রসমাজের কর্তব্য হলো— দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে উপযোগী করে তোলা। ছাত্রসমাজকে হতে হবে চরিত্রবান, শৃঙ্খলাবদ্ধ, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল। ছাত্রজীবনেই মানুষকে গড়ে তুলতে হয় ভবিষ্যতের জন্য। নিয়মিত শরীরচর্চা তথা সুস্বাস্থ্য গঠনের দিকে ছাত্রসমাজকে মনোযোগী হতে হবে। নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক শিষ্টাচার গ্রহণ করাটাও তাদের এ বয়সে অত্যন্ত প্রয়োজন। মোট কথা, দেহ-মন সুস্থ সবল রেখে শিক্ষা ও জীবনের ক্ষেত্রে সঠিক দিশায় অগ্রসর হওয়াই ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
জীবনমুখী জ্ঞানার্জনের লক্ষ্য : পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনই শুধু ছাত্রজীবনের একমাত্র সোপান হতে পারে না। আধুনিক বিশ্বের দেশগুলো বিজ্ঞানজ্ঞাননের বিভিন্ন শাখায় প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলছে, সেক্ষেত্রে আমাদের দেশের ছাত্রদেরকে শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না- জীবনমুখী বিদ্যা অর্জনের দিকে তাদের মনোনিবেশ করতে হবে। তথ্য ও বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে দেশকে গড়ে তুলতে হলে ছাত্রদেরকে বহুমুখী জ্ঞান ও চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে।
দেশগঠনমূলক কাজে অংশগ্রহণ : সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধনই ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য। এ কারণে ছাত্রদেরকে দেশগঠনের কাজে অংশ নিতে হবে। ছাত্রদের মনে দেশপ্রেমের মনোভাব জাগ্রত হলে দেশ গঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা এগিয়ে আসবে। বর্তমান সরকার দেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ক. নিরক্ষরতা দূরীকরণ : দেশের উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় নিরক্ষরতা। নিরক্ষরতার কারণে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়। কাজেই সরকারের পাশাপাশি ছাত্রসমাজকেও নিরক্ষরতা দূরীকরণে এগিয়ে আসতে হবে। দেশে সর্বত্র ‘বিনামূল্যে শিক্ষা কেন্দ্র’ গঠন করা হয়েছে। আমাদের ছাত্রসমাজ ব্যাপকভাবে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে দেশগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
খ. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা : কৃষিই বাংলাদেশের শতকরা ৮০ জন মানুষের প্রধান জীবিকা। অথচ দেশের আধুনিক কৃষিপদ্ধতি এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ ও সার যেমন প্রয়োজন, তেমনি দরকার আধুনিক সেচ ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে সরকার সারা দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য ঘাটতি দূরীকরণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি ছাত্রসমাজ এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গ. জনসংখ্যা সীমিতকরণ ও পরিবার পরিকল্পনা : কোটি কোটি মানুষের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। বিপুল জনসংখ্যার চাপে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য সরকার সারা দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনাকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার চেষ্টা করছে। ছাত্রসমাজ জনগণের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে এ কাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ছাত্রসমাজ ও জনসেবা : দেশ ও জাতির কল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি ছাত্রসমাজ সমাজসেবামূলক কাজেও ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা ছাত্রদের নৈতিক দায়িত্ব। বন্যা, খরা, মহামারি, দুর্ভিক্ষের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দুর্ভিক্ষের সময় ছাত্ররা সেবা ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করে দিতে পারে। দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে সেবার প্রত্যাশা করে— দেশ ও জাতির মঙ্গলই হবে চূড়ান্ত।
উপসংহার : ছাত্রসমাজই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের ভার ন্যস্ত থাকে ছাত্রদের ওপর। এ জন্য ছাত্রসমাজকে আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে— একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশ ও জাতির গঠনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে, ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে ছাত্রসমাজ দেশ ও জাতির জন্য আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে— এটাই ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
এছাড়া আরো দেখুন: মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা
ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা – ২০ পয়েন্ট
সংকেত : ভূমিকা, ছাত্রজীবনের মূল্য, ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য, পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য, শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রদর্শন, জ্ঞানার্জন, পরিশ্রমী, চরিত্র গঠন, স্বাস্থ্য, দেশপ্রেম, ছাত্র-জীবনের সার্থকতা, উপসংহার।
ভূমিকা : শিক্ষার কোনো বয়স নেই। মানুষ আমৃত্যু শিক্ষা লাভ করে। কিন্তু মানুষের সম্পূর্ণ জীবনটাকেই ছাত্রজীবন বলে না। জীবনের প্রথম দিকে যে সময়টা বিদ্যা শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিবাহিত হয় তাকে ছাত্রজীবন বলে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যখন পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানার্জনের জন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকে তখন তাদের সেই জীবনকে ছাত্রজীবন বলা হয়। ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের বীজ বপনের সঠিক সময়। ছাত্রজীবনের দায়িত্ব-কর্তব্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারলে ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতা অর্জিত হয়।
ছাত্রজীবনের মূল্য : ছাত্রজীবন মানুষের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের সর্বোত্তম সময়। তাই মানুষের সমগ্র জীবন পরিসরে এই জীবনের মূল্য অতধিক। মানুষের জীবনটাকে যদি একটি বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে ছাত্রজীবন হলো সেই বৃক্ষের মূল। একটি গাছের মূল যত শক্ত হবে বৃক্ষ তত মজবুত হবে। ঝড়ে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সে গাছ উপড়ে পড়বে না। মানুষের জীবনও সেরূপ। ছাত্রজীবনে যে যত পরিশ্রম করবে ভবিষ্যৎ জীবনের ভিতও তার তত মজবুত হবে। জীবনের এ মূল্যবান সময়টুকু নষ্ট করলে ভবিষ্যৎ জীবনে দুঃখ, দুর্দশা ও হতাশা নেমে আসে।
ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানার্জন করে একজন আদর্শ মানুষ হওয়া। শুধু পরীক্ষায় পাশ করে কয়েকটি সার্টিফিকেট বা সনদ অর্জন করলেই ছাত্রজীবনের উদ্দেশ্য সফল হয় না। একজন যোগ্য ও মহান মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার মধ্যেই ছাত্রজীবনের সার্থকতা নিহিত। চরিত্রবান, আত্মবিশ্বাসী, নম্র-ভদ্র, বিনয়ী, সমাজসেবী, প্রভৃতি গুণ ছাত্রদের অর্জন করতে হবে। আর এগুলো কেবল কঠোর সাধনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য : আজকের ছাত্রই আগামী দিনে দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক। আজকের শিশু-কিশোর-কিশোরী আগামী দিনে রাষ্ট্রের কর্ণধার। তাই জাতির ভবিষ্যতের যোগ্য ও কর্তব্যপরায়ণ নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের কঠোর সাধনায় ব্রতী হতে হবে। তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সদা সজাগ থাকতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। তবে শিক্ষা অর্জন ও চরিত্র গঠনই ছাত্র-ছাত্রীদের প্রধান ও প্রথম কাজ।
পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য : পিতামাতা আমাদের গুরুজন। পিতামাতা আছেন বলেই পৃথিবীতে আমাদের আবির্ভাব ঘটেছে। তারা সবসময় সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। তাদের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে চলা প্রত্যেক ছাত্রের নৈতিক দায়িত্ব। তারা যা আদেশ করেন তা পালন করতে হবে, আর যা নিষেধ করেন তা মেনে চলতে হবে।
শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রদর্শন : শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রদর্শন করা প্রত্যেক ছাত্রের কর্তব্য। তাদের সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। শিক্ষকরাই হলেন পথপ্রদর্শক। তাদের নির্দেশিত পথে এগিয়ে যেতে পারলে জীবনে সফলতা লাভ করা সম্ভব।
জ্ঞানার্জন : ছাত্রের অধ্যয়ন তৎপরতা প্রতিটি শিক্ষার্থীর অন্তরে সর্বদা জাগ্রত থাকা উচিত- ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’। যে কোনো জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। ছাত্র-ছাত্রীদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করে পরিপূর্ণ শিক্ষা লাভ করতে হবে। নিজেকে অলসতা থেকে মুক্ত রেখে নিয়মিত পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়ন করতে হবে। দৈনন্দিন শিক্ষার বিষয়গুলো আত্মস্থ করা প্রত্যেক ছাত্রেরই কর্তব্য। পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে পাঠাগারিক বহির্ভূত ভালো বই ও খবরের কাগজ পড়ে জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে।
পরিশ্রমী : জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে শ্রমশীল ও অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন। বস্তুত প্রত্যেক মানুষের মধ্যে থাকা সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে হয়। পৃথিবীতে যারা অবিস্মরণীয় কীর্তি রেখে গেছেন, তাদের যে প্রতিভা ছিল তা প্রধানত কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল। ‘শ্রমবিমুখ প্রতিভা বলতে কিছু নেই’ ছাত্র-ছাত্রীদের কথাটি প্রতি গভীর আস্থা রাখতে হবে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় সহজাত বুদ্ধিকে শাণিত করে শিক্ষার্থীকে সফলতার পথে এগিয়ে দেয়। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের গুণে কম মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীও যথেষ্ট উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হয়। একজন ছাত্রকে কঠোর পরিশ্রম, আত্মশৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিয়মিত জ্ঞান অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ ও প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলার জন্য ব্রতী হওয়া দরকার। তাহলেই তাদের জীবনের সফলতা অর্জন সহজতর হবে।
চরিত্র গঠন : ছাত্র-ছাত্রীদের অর্জিত জ্ঞানকে সার্থকভাবে প্রয়োগ করার জন্য প্রয়োজন উন্নত চরিত্র। তাই শিক্ষা লাভের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত চরিত্র গঠনের জন্য যত্নবান হওয়াও তাদের কর্তব্য। নিজেকে সংযততা ও শিষ্টাচার, পরিশীলিত চিন্তা, অন্যায় ও অসত্যের উর্ধ্বে রেখে নিষ্ঠাবান ও নৈতিক চিন্তার অধিকারী হওয়ার প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করা তাদের কর্তব্য। যার মধ্যে বিদ্যা ও চরিত্র- দুটির একত্র সমাবেশ ঘটে সেই প্রকৃত মানুষ। তার জীবনে সফলতা অনিবার্য। ছাত্র-ছাত্রীদের সুদৃঢ় চরিত্র গঠনের জন্য গুরুজনদের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা, আল্লাহর প্রতি অনুরাগ, জীবের দয়া, সত্যবাদিতা, বিনয়, ক্ষমা, সহিষ্ণুতা ইত্যাদি গুণ অর্জন করতে হবে।
স্বাস্থ্য : স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। কথাটি স্মরণ রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়মাবলি যথাযথভাবে পালন করে চলতে হবে। শারীরিক সুস্থতার ওপর মানসিক সুস্থতা বহুলাংশে নির্ভরশীল। শরীর সুস্থ না থাকলে মনে প্রশান্তি থাকবে না এবং লেখাপড়াও করা যাবে না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি পালনের দ্বারা সুস্থ দেহ ও সুস্থ জীবন গড়ে তোলা খুবই জরুরি। ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের মূল্যবান সময়কে যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগানোর জন্য সময়ানুবর্তিতা অর্জন করতে হবে। তাছাড়া নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলাবোধ অর্জন করা আবশ্যক। এ সকল বিষয় ও গুণের ওপর জীবনের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।
দেশপ্রেম : ছাত্র-ছাত্রীদের সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। তাদের জীবনে দেশপ্রেমের শিক্ষা নেওয়ার উপযুক্ত সময় এটা। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা সমাজের অনেক কল্যাণকর কাজে সহায়তা করতে পারে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্র-ছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অশিক্ষা, কুসংস্কার দূর করা তথা জনসাধারণকে খাদ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের দায়িত্ব রয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য মহামারির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছাত্ররা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গঠন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত উপকার করতে পারে।
ছাত্রজীবনের সার্থকতা : নিরলস সাধনা ও একাগ্রতা নিয়ে জ্ঞানার্জন, যাবতীয় মানসিক গুণাবলি চর্চার দ্বারা উন্নত চরিত্র ও সুস্বাস্থ্য গঠনের নিরলস সাধনার ভেতর দিয়েই ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সমাজের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন তথা দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের দীক্ষায় তারা উজ্জীবিত। উদারতা ও ত্যাগের চেতনায় তারা দীপ্ত। দেশ ও জাতীয় জীবনে তারা আলোর আলো, জীবন যুদ্ধে হাত-প্রতিহাতে টিকে থাকা তথা জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা অপরাজেয় দুর্বার সৈনিক।
উপসংহার : ছাত্রজীবন মানবজীবনের উৎকৃষ্ট সময়। মানবজীবনের জন্য যা কিছু কল্যাণকর, তা আয়ত্ত করার প্রকৃষ্ট সময় ছাত্রজীবন। এ সময়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে ভবিষ্যৎ জীবনের সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করা উচিত। তা হলেই জীবনের সাফল্য ও গৌরবের মুকুট অর্জিত হবে।



