রচনা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: আজকে আমরা শিখব প্রবন্ধ রচনা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প, যা ক্লাস ৯,১০, এসএসসি, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপযোগী। আমরা ১৫, ২০, ৩০ প্যারা/পয়েন্ট আকারে লেখার চেষ্টা করেছি। তোমাদের যেটা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী শিখে নাও গুরুত্বপূর্ণ এই বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনাটি। তোমাদের যদি পিডিএফ এর প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানাবে। তাহলে পড়া এখনি শুরু করে দাও।
| পোস্টের বিষয়বস্তু | রচনা লিখন |
| রচনার টপিক | বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প |
| প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহ | ক্লাস ৬, ৭, ৮,৯,১০, এসএসসি, এইচএসসি |
| নমুনা আছে | ২টি |
রচনা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প – নমুনা (১)
সংকেত : সূচনা, পর্যটনের পরিচয়, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব ও অবদান, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সম্ভাবনা, বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্রের শ্রেণিভিত্তিক বিন্যাস, পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারি উদ্যোগ, উপসংহার।
সূচনা : মানুষ একঘেয়ে অবসর পেলে দেশের ভেতরে বা বাইরে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। প্রতিটি দেশেই প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি অনেক কিছু রয়েছে, যা ভ্রমণপিপাসু মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তারপরে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই কম-বেশি পর্যটন শিল্প মানুষের দ্বারা গড়ে ওঠে এবং এখান থেকে উন্নয়ন সাধিত হয়। আমাদের বাংলাদেশেও পর্যটন শিল্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা। বাংলাদেশের চারদিকে সবুজের মেলা। এছাড়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে।
পর্যটনের পরিচয় : জ্ঞানপিপাসু মানুষ অজানাকে জানা আর অদেখাকে দেখার জন্য সদা উদগ্রীব। মানুষের এ জানার আগ্রহ থেকেই পর্যটনের বিকাশ ঘটেছে। হয়তো তখন মানুষ একে পর্যটন নামকরণ করেনি। কিন্তু পর্যটন বিষয়বস্তুর ধারণা অনেক প্রাচীন। কেননা সেই প্রাচীনকালেই মার্কোপোলো, ইবনে বতুতা, ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং-সহ বিশ্বখ্যাত পর্যটকরা ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে আছেন। সেই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব কষ্টকর ও দুর্গম থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশে দেশে। আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি এসব বিশ্বখ্যাত পর্যটকের অনেকেই এ উপমহাদেশে এসেছিলেন। আজ পর্যটনের যে ধারণা পৃথিবীব্যাপী প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে তা মূলত তখনকার ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন : বাংলাদেশ একসময় পর্যটন শিল্পে বিখ্যাত ছিল। বিভিন্ন শাসক-শোষক শ্রেণির কারণে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের হারিয়ে যাওয়া পর্যটন শিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দেয়। বাংলাদেশের নান্দনিক সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৭শে নভেম্বর তারিখে জারিকৃত মহান মুক্তিযুদ্ধের ১৮০ নং আদেশ বলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন সংস্থাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানের উদ্যোগ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন’ নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠন করে এবং ১৯৭৫ সালে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত হয়। জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে এ সংস্থার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো : বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পর্যটন সুবিধাসহ সেবাসমূহের অবকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটকদের সেবা প্রদান, বিদেশে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা ও দেশের পর্যটন সম্পদের বিকাশের পাশাপাশি এ শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব ও অবদান : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। খাতটি নানা ভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। পর্যটন কর্পোরেশন মুনাফা অর্জনকারী সংস্থার মধ্যে একটি। বাংলাদেশ সরকার পর্যটন খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সুনাম অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ১৯৭৪ সালে জাতীয় হোটেল ও পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। এ পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই দেশ-বিদেশে কর্মরত আছে। পর্যটন শিল্পের উন্নতির সঙ্গে যেসব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হতে পারে সেগুলো হলো- কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস, প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন, বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কুটিরশিল্প ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন, অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদি।
বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সম্ভাবনা : বাংলাদেশ প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজা-রাজড়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি দারুণভাবে উন্নতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য মসলিন। পৃথিবীব্যাপী এদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল সূক্ষ্ম বস্ত্র মসলিনের মাধ্যমে। দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে এদেশের আর্থিক সমৃদ্ধি এনেছে।
বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা বর্তমান। কেননা, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন) রয়েছে বাংলাদেশে, যা বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ রাখতে পারে ব্যাপক ভূমিকা। আমাদের রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। ছয়টি ঋতুতে হাজার বর্ণের আমাদের দেশটি যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মিউজিয়াম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর দৃষ্টিনন্দন এদেশটি যুগে যুগে তাই অনেক কবি-লেখক তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে কবি পেয়েছেন ভাষা, মানুষ পেয়েছে আশা। পর্যটকরা চোখ খুলে, মন ভরে উপভোগ করে এ সৌন্দর্য।
বাংলাদেশের অনুপম নিসর্গ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পর্যটন শিল্প প্রসারের অন্যতম উপাদান। এ অনুপম নৈসর্গিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগের জন্য বাংলাদেশ যুগে যুগে হাতছানি দিয়েছে কাছে ও দূরের ভ্রমণপিপাসুদের। তারা অবাক হয়ে এদেশের নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। অনেকেই তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের। তাই বাংলাদেশের রূপে মুগ্ধ একজন পর্যটক বলেছেন-
বাংলাদেশে প্রবেশের হাজার দুয়ার খোলা রয়েছে কিন্তু বেরবার একটি ও নেই
প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রীতি দেশে উপযোগী পরিবেশে বিদেশি পর্যটন এবং পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় পর্যায়ক্রমে বেড়ে চলেছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা দা নিউ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অনলাইনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নির্ধারণ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশ স্থানের মধ্যে স্থান করেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন।
বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্রের শ্রেণিভিত্তিক বিন্যাস : বাংলাদেশে মানুষের নান্দনিকতা প্রবল প্রাকৃতিক অবস্থান রয়েছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল এবং চা-বাগান, তামাবিল, জাফলং, রাতারগুল, নয়নাভিরাম ঝর্ণা, হ্রদ, সুন্দরবনসহ বিভিন্ন বনাঞ্চল প্রকৃতি মানুষকে মোহিত করে। এছাড়া রয়েছে উপকূলীয় দ্বীপমালা, বন্যা উপত্যকা ও গ্রামীণ জীবনধারা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকনের মনোরম সমুদ্রতট স্থানগুলো। বাংলাদেশে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এবং বহু জাতের উদ্ভিদ দেখা যায়। রাতারগুল হ্রদে নৌকাভ্রমণ, মধু সংগ্রহ, জলাভূমি, পাহাড়ি চট্টগ্রাম এলাকার ট্রেকিং, হাইকিং ইত্যাদির সুযোগ রয়েছে। সাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটন আকর্ষণের আরেক অনন্য সংযোজন। এছাড়া আমাদের এই বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে বহু ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, ঢাকার লালবাগের দুর্গ, আহসান মঞ্জিল, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় জাদুঘর, সোনারগাঁও জাদুঘর, জাতীয় বস্ত্র জাদুঘর, নাটোর ও পুঠিয়ার রাজবাড়ি প্রভৃতি। এছাড়া আরও অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে।
পর্যটন কেন্দ্রগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারি উদ্যোগ : দেশের পর্যটন শিল্পকে গতিশীল ও আকর্ষণীয় করার জন্য এবং স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো সুপরিচিত ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার একাধিক জোন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের পর্যটন শিল্পকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জন্য একটি খসড়া নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছিল। কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইনানী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পাশাপাশি সেন্টমার্টিন দ্বীপের উন্নয়নে মাস্টার প্লানের কাজ চলছে। কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের রাস্তা উন্নয়নের জন্য ওই এলাকাকে পৌর এলাকা ঘোষণাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব নানা পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমাদের পর্যটন শিল্প বিপুল সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
উপসংহার : পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি আমরা বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারি। আমাদের একান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিশ্বের দরবারে স্থান করে নেবে। এটাই আজকের প্রত্যাশা।
রচনা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প – নমুনা (২)
ভূমিকা : জীবিকার প্রয়োজনে ছুটতে ছুটতে মানুষ যখন হয়ে পড়ে ক্লান্ত-অবসন্ন, তখনই সে চায় অবসর, চায় বিশ্রাম। আর এই অবসর ও বিশ্রামের প্রয়োজনে সে ছুটে যায় প্রকৃতির কোলে; প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধের সান্নিধ্যে এসে সে জুড়াতে চায় তাপিত জীবনের সকল বিরক্তি, অবিশ্রান্ত- আর তখনই সে হয়ে ওঠে পর্যটক। এই পর্যটকদের ঘিরেই গড়ে উঠেছে পর্যটন শিল্প। মানুষের এই ভ্রমণপ্রবণতা থেকেই পর্যটন শিল্পের উৎপত্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই পর্যটন শিল্প আজ এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে দূরত্ব আজ আর মানুষের কাছে কোনো সমস্যা নয়। তাই পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশেও পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।
পর্যটক ও পর্যটনের সংজ্ঞা : বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন পর্যটক হলেন অস্থায়ী পরিভ্রমণকারী এবং যিনি নির্দিষ্ট কারণে বা উদ্দেশ্যে কোনো দেশে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টার জন্য অবস্থান করেন। যেমন- ক. অবসর কাটানো, খ. ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে, গ. পারিবারিক উদ্দেশ্যে, ঘ. সম্মেলন বা মিশনারিজ কাজে।
আর পর্যটন বলতে বোঝায়- মানুষ যেখানে স্থায়ীভাবে বাস করে, সেখান থেকে অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সাময়িক ভ্রমণ বা গমনাগমনকে। সাধারণত মানুষের এমন ভ্রমণ আনন্দদায়ক এবং বিনোদনমূলক হয়ে থাকে। এভাবেই পর্যটক ও তার পর্যটন নিয়ে গড়ে উঠেছে পর্যটন শিল্প।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আকর্ষণ : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নীলাভূমি বাংলাদেশ। যুগে যুগে বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ চিরসবুজ ঘেরা এক স্বর্গের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ও হিউয়েন সাং-এর মতো পর্যটকরা এ দেশে ভ্রমণে এসে বলেছেন, ‘এমন সুন্দর দেশ আর কোথাও দেখিনি।’ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং প্রাচীন সভ্যতার একটি কেন্দ্র হিসেবে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো অনেক সম্পদ রয়েছে বাংলাদেশে। বিস্তীর্ণ পাহাড়-পর্বত, বনভূমি উপত্যকা, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, দীর্ঘতম সৈকত কক্সবাজার, হ্রদ, নদনদী, পালতোলা নৌকার অনুপম দৃশ্য, চা-বাগান, প্রাচীন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রভৃতি এ দেশের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবনধারাও খুব সহজে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটনের আকর্ষণগুলোকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়-
ক. প্রাকৃতিক আকর্ষণ :
(i) পাহাড়-পর্বত, (ii) সমুদ্রসৈকত, (iii) নদনদী ও জলাভূমি, (iv) বন ও বন্যপ্রাণী।
খ. সাংস্কৃতিক আকর্ষণ :
(i) সাধারণ মানুষের জীবনধারা, (ii) উপজাতীয়দের জীবনধারা, (iii) আঞ্চলিক গান ও নৃত্য, (iv) খেলাধুলা।
গ. প্রাকৃতিক নিদর্শন :
(i) পাহাড়-পর্বত, (ii) মরুভূমি, (iii) মহাস্থানগড়, (iv) উয়ারী-বটেশ্বর, (v) সোনারগাঁও, (vi) লালবাগ কেল্লা।
ঘ. ধর্মীয় আকর্ষণ :
(i) বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও তীর্থস্থান, (ii) দরগাহ ও মাজার।
বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প বিকাশে দেশকরণ : ১৯৭২ সালের ২৭শে নভেম্বর বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ১৪৩ বলে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়ন, প্রসার এবং ব্যবস্থাপনা করাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। কর্পোরেশনে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি একজন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয় এবং ১৯৭৫ সালের ৫ মার্চ পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়। প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটন শিল্পের বিশ্ব সম্প্রসারণের জন্য ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের এক উন্নত পর্যটন খাত স্থাপন করার জন্য বাংলাদেশে পর্যটনের গুরুত্ব উপলব্ধি করা হয়। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন দেশের একমাত্র সরকারি পর্যটন সংস্থা। এর অধীনে এ খাতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিস্তৃত পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য কেবলমাত্র এটিই যথেষ্ট নয়। পর্যটন সুবিধা-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এ সংস্থার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সামনে দুর্বল।
বেসরকারি খাতে পর্যটন : আমাদের দেশে এমন কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি যে পর্যটন খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ব্যাপক হারে বিনিয়োগ করতে পারেন। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে পর্যটন এখনো শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। তবে শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও নিত্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও উদ্যমে এখানে পর্যটনের পরিসরে কিছু বেসরকারি পর্যটন সংস্থা গড়ে উঠেছে। বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্যা গাইড ট্যুরস লিমিটেড, গ্রিন চ্যানেল, ট্রাভেল হাউস লিমিটেড, ট্যুর বাংলা লিঃ, বেঙ্গল ট্যুরিজম কোম্পানি, ইউনিক ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, ভিনটেজ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, এ ইউনিকো (বি.বি) লিমিঃ, ট্যুর প্ল্যানার, ডেস্টিনেশন লিমিটেড, ইন্টেক ট্যুরস বাংলাদেশ লিমিটেড ইত্যাদি।
পর্যটন নীতিমালা : ১৯৯২ ইংরেজিতে সর্বপ্রথম পর্যটন সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালা ঘোষণার ফলে এ দেশের পর্যটন ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এ জাতীয় নীতিতে বর্ণিত দেশের পর্যটনের উদ্দেশ্য নিরূপণ-
- (i) বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো।
- (ii) জনগোষ্ঠীর মধ্যে পর্যটনের প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য অল্প খরচে পর্যটন সুবিধা সৃষ্টি করা।
- (iii) দেশের পর্যটন সম্পদের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা।
- (iv) বিদেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা।
- (v) বেসরকারি পুঁজির জন্য একটি সুস্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্র উন্মোচন করা।
- (vi) বেশি সংখ্যক নাগরিকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ।
- (vii) বিদেশি পর্যটক ও দেশি জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ।
- (viii) যুব ও নারী শক্তির উন্নয়ন, দেশের ঐতিহ্যের লালন এবং বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐক্য সুদৃঢ় করা।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে : ১৯৭২ সালে ৮,৬৩৭ জন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে ভ্রমণ করে। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ লক্ষ ৭২ হাজার আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ঘটে। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত লোকসান গেলেও ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পর্যটন খাতের আয় ২৪৫.৪৮ কোটি টাকা।
পর্যটন সেবা : বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থানসমূহ আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এসব স্থানে বিদেশি পর্যটকদের দর্শন ও উপভোগ সহজতর, নিরাপদ ও আরামদায়ক করার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। কক্সবাজারে দুটি কোটি টাকা ব্যয়ে নৌকা সংরক্ষণ নির্মাণ করেছে। এখানে বিদেশিদের জন্য আধুনিক সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে একটি কটেজ, একটি সুইমিং পুল, একটি স্পোর্টস রেস্টুরেন্ট, স্কেটিং রিং, টেনিস কোর্ট, স্কোয়াশ কোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
এখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের আবাসিক সুবিধার জন্য রয়েছে হোটেল শৈবাল, উজান প্রভৃতি। আরও ৫টি হানিমুন কটেজ রয়েছে। রাজশাহীতে কাকরাইল অঞ্চলে দুটি প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহীতে পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় ২০০ আসনবিশিষ্ট একটি মডার্ন অডিটোরিয়াম তৈরি করেছে। এখানে স্টেজ শো প্রদানের ব্যবস্থা, অডিটোরিয়ামে উপস্থাপনার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং গিফট শপিং স্পট করা হয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেন্ট-এ-কার প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যাতে ২৪টি গাড়ি রয়েছে। পর্যটন যাতায়াত ব্যবস্থার মধ্যে ২৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কার, ৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস ও ৩টি নন-এসি বাস রয়েছে। পর্যটকদের অতিরিক্ত সুবিধা দিতে রেন্ট-এ-কার প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লিমোজিন সার্ভিস চালু রয়েছে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা : পর্যটন এমন একটি শিল্প যেখানে বিনিয়োগ, চাকরি ও আয় সর্বোচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। এ শিল্পের কোনো সীমানা-পরিসীমা নেই। একে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেহেতু সীমাহীন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিল্প কাঠামোর দুর্বলতা, কৃষ্টি ও প্রযুক্তির পশ্চাৎপদতা, সেজন্য পর্যটন অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে। বিশেষত এমন এক খাত যেখানে উচ্চ প্রযুক্তি ও ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই- প্রয়োজন শুধু জাতিগত মানসিকতা ও সচেতনতা।
পর্যটনের টেকসই মৌল উপাদান- পর্যটন আকর্ষণ, পরিবহন, খাদ্য ও আবাসন। পর্যটনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সমস্যার কারণে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হচ্ছে না সন্তোষজনকভাবে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সমস্যাবলী নিম্নরূপভাবে ভাগ করা যায়-
ক. অবকাঠামো ও বস্তুগত :
(i) দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, (ii) হোটেল ও মোটেলের অপ্রতুলতা, (iii) অনুন্নত ও অপরিচ্ছন্ন পর্যটন কেন্দ্র, (iv) অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, (v) পর্যটন পরিকল্পনার অভাব।
খ. রাজনৈতিক :
(i) অস্থিরতা, (ii) সহিংসতা, (iii) হরতাল-বিক্ষোভ, (iv) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।
গ. সামাজিক :
(i) পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, (ii) পর্যটকদের নেতিবাচক মনোভাব, (iii) দক্ষ জনশক্তির অভাব।
ঘ. বিপণন :
(i) সঠিক তথ্যের অভাব, (ii) প্রচার ব্যবস্থায় ঘাটতি, (iii) উপস্থাপনার দুর্বলতা।
মূলত, বহুমুখী সমস্যার আবর্তে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের পথপরিক্রমা নির্ধারণ সংকটাপন্ন। পর্যটনের ক্ষেত্রে সরকারি পদক্ষেপ অপ্রতুল ও অপর্যাপ্ত। আমাদের দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাতায়াতের জন্য নৌ ও সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। যোগাযোগ যত সহজ ও দ্রুত করা যাবে পর্যটকদের ভ্রমণস্পৃহা ততটাই বৃদ্ধি পাবে। স্পষ্ট যে আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। আমাদের দেশে পর্যটনের ক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ এবং নিরাপত্তার অভাব পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া বিদেশি পর্যটকদের সাথে আমাদের দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষের আচরণগত ত্রুটি রয়েছে। এগুলো সংশোধন প্রয়োজন। নইলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার সাথে সাথে পর্যটন শিল্পও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
পর্যটন শিল্পোন্নয়নে সুপারিশ : পর্যটন শিল্পের আধুনিকীকরণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশিদেরকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পর্যটন সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সমন্বিত করা প্রয়োজন। দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে পর্যটন সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যটন বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য দেশে সুষ্ঠু আইন- শৃঙ্খলার প্রয়োজন। বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত শিল্পজাত দ্রব্যাদি যেন বিদেশি পর্যটকদের বিরক্ত না করে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি পর্যটনের সহায়ক প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। পর্যটনের বিষয়ে জনগণকে উদার হতে হবে। পর্যটন কেন্দ্র নিয়মিতভাবে আকর্ষণীয় খেলাধুলা, হস্তশিল্প প্রদর্শনী, ঘোড়ার দৌড়, লোকসংগীত, নৌকা ভ্রমণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে।
পর্যটন বিষয়ে প্রশিক্ষণদানের জন্য আরও পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন ও পরিচালনা করতে হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে পর্যটন তথ্যের প্রচার করে বিদেশি পর্যটকদের মনে বাংলাদেশ সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে পর্যটন সংশ্লিষ্ট লোকের বিপণনের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। পর্যটন এলাকা হিসেবে সুন্দরবন অবহেলিত। সুন্দরবন বিষয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে। বাণিজ্যিক গুরুত্বের সাথে সাথে পর্যটন নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার অবকাশ রয়েছে। বিদেশিদের পাশাপাশি দেশীয় লোকজনকেও পর্যটনে আকৃষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি না করে এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য চালু করা দরকার ‘গ্রিনভেনার’ বা ‘ইকো ট্যুরিজম’ প্রকল্প। সর্বত্র পাঁচতারা হোটেল গড়ে না তুলে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে সংগতিপূর্ণ পর্যটন আবাস গড়ে তোলা দরকার।
উপসংহার : বাংলাদেশে পর্যটনের আকর্ষণের অভাব নেই। পর্যটন শিল্পে বিদ্যমান সমস্যাসমূহের সমাধান এবং উপযুক্ত পর্যটন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস হতে পারে।
দুইটা নমুনা দিয়ে আজকের রচনা এখানেই শেষ করলাম, আশা করি ভাল লেগেছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সকল রচনা খুব শীগ্রই প্রকাশ করে হবে, সাথেই থাকুন।



