শ্রমের মর্যাদা রচনা: প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজকে শ্রমের মর্যাদা রচনা নিয়ে হাজির হয়েছি। ২টি সহজ নমুনা দিয়েছি, যেখানে ২০ পয়েন্ট/প্যারা সহ একটি ছোট ভ্যারিয়েন্ট লিখেছি। আশা করি তোমাদের ভাল লাগবে। তাহলে পড়া শুরু কর-
| পোস্টের বিষয়বস্তু | রচনা লিখন |
| রচনার টপিক | শ্রমের মর্যাদা |
| প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহ | ক্লাস ৬, ৭, ৮,৯,১০, এসএসসি, এইচএসসি |
| নমুনা আছে | ২টি |
শ্রমের মর্যাদা রচনা – ২০ পয়েন্ট
সংকেত : সূচনা, শ্রমের গুরুত্ব, শ্রমের শ্রেণিবিভাগ, শ্রম ও উৎপাদন, সুখতার জন্য শ্রম, শ্রমের মর্যাদা, শ্রমের ক্ষেত্রে নানা দৃষ্টিভঙ্গি, পাশ্চাত্যে শ্রমের মর্যাদা, আমাদের দেশে শ্রমিকতা, জাতীয় জীবনে শ্রমের প্রয়োজনীয়তা, বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় শ্রমের গুরুত্ব, উপসংহার।
সূচনা : মানবসভ্যতার উষালগ্ন থেকেই পৃথিবী গড়ে উঠেছে একটি বিরাট কর্মশালা হিসেবে। কর্মের অস্তিত্বের উপর ভর করে পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে। সভ্যতার চরম বিকাশের মূলে রয়েছে যুগ-যুগান্তরের অবিরত মানুষের অক্লান্ত শ্রম। মানবজাতি তাদের মূল্যবান শ্রম উৎসর্গ করে পৃথিবীকে দিয়েছে সভ্যতার সোনালি মুকুট। অথচ এদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়নি। এরা কালের ভেলায় তলিয়ে হারিয়ে গেছে অগণিত সমুদ্রে। কিন্তু তাদের শ্রমের উজ্জ্বল স্বাক্ষরই সভ্যতার চরম উৎকর্ষ।
শ্রমের গুরুত্ব : মানবজীবনের জন্য শ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে মানুষ একদিকে যেমন সভ্যতার স্রষ্টা, অপরদিকে নিজের ভাগ্য নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য স্রষ্টা। মানুষের ভাগ্য মানুষকে নিজের হাতে গড়ে নিতে হয়, অন্যের উপর নির্ভর করে নয়। শ্রম ভাগ্য নির্ধারণের হাতিয়ার। প্রতিটি মানুষ পৃথিবীতে এসেছে সুপ্ত প্রতিভা নিয়ে, আর এ সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত হয় শ্রমের মাধ্যমে। পৃথিবীর নিরীক্ষণের ইতিহাস বিচার করলে বোঝা যায় তারা জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে কতখানি পরিশ্রম করেছিলেন। তাছাড়া শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো এমন করে তৈরি হয়েছে যে, পরিশ্রম না করলে এগুলো চলবেই না। পরিশ্রম না করলে শরীরের যন্ত্রগুলো বিকল হয়ে যায়, স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। কর্মহীন জীবন কোনো মানুষের কাম্য নয়।
শ্রমের শ্রেণিবিভাগ : শ্রমকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- কায়িক শ্রম এবং মানসিক শ্রম। উভয় প্রকার শ্রমই মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। পরিশ্রম মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করে। পরিশ্রমী মানুষ একদিন না একদিন সফল হবেই। পৃথিবীর সবকিছু যেমন— সুখ, সমৃদ্ধি, প্রাচুর্য, সভ্যতা সবকিছুই পরিশ্রমের ফল। চিকিৎসক, বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, কবি, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদদের পরিশ্রম হলো মানসিক পরিশ্রম। আপাতদৃষ্টিতে তাদের পরিশ্রম চোখে দেখা যায় না বলে অনেকেই আরামদায়ক মনে করতে পারে। কিন্তু আসলে তা নয়। তাছাড়া এ পর্যায়ে আসার জন্য তাদের অনেক বেশি শারীরিক পরিশ্রমও করতে হয়েছে। রাত জেগে পড়তে হয়েছে। আর যারা কায়িক পরিশ্রম করে তারা নতুন নতুন সৃষ্টি করতে না পারলেও সৃষ্টির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। এদের শ্রমের বিনিময়ে সৃষ্টি হয়েছে আকাশচুম্বী অট্টালিকা, বিলাসবহুল আকর্ষণীয় সব জিনিস।
শ্রম ও উৎপাদন : মানুষ পরিশ্রম করেই নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে। পরিশ্রমী মানুষ সর্বদাই সফল হয়। কর্মহীন জীবন উৎপাদনের সমান। জীবনধারণ করতে হলে জীবিকা অর্জন করতে হবে। আর জীবিকা অর্জনের জন্য পরিশ্রমী হতে হবে। যেকোনো পেশায় পরিশ্রম করে মানুষ জীবিকা অর্জন করতে পারে। মানুষের জীবনে শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আদিম গুহাবাসী মানুষের আজকের সভ্য সমাজে বসবাসের পেছনে মানুষের পরিশ্রমের অবদান অনস্বীকার্য।
চাষি খেতে চালাইছে হাল
ভাত বসে তাঁত বোনে, জেলে বোনে জাল
বহুস্তর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার
তাঁরই পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।
সুখতার জন্য শ্রম : পরিশ্রম মানুষের দেহ-মনকে সবল করে। শ্রমের মাধ্যমে ব্যক্তির অঙ্গ সঞ্চালন ও বুদ্ধিবৃত্তি চালনা করলে মানসিক পুষ্টি সাধিত হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কর্তব্য পালন করে গেলে হৃদয় যে একটা আত্মপ্রসাদে ভরপুর হয়ে ওঠে, তার আনন্দ একমাত্র পরিশ্রমী লোকই পেতে পারে। কিন্তু লোকদের জীবনে প্রতিদিনই একটি সুন্দর সকাল অপেক্ষা করে নতুন আশা উদ্দীপনার স্বপ্ন অঙ্কার নিয়ে। অকর্মণ্য লোকদের জীবনে কখনো চিন্তের স্বাধীনতা আসে না, শুধু বিছিন্ন ভাবনা জীবনকে অসহ্য করে তোলে। পবিত্র আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষের শ্রম বৃত্তিকেকে কিছু নেই।’ শ্রম শুধু ভাগ্য উন্নয়নের চাবিকাঠি নয়, মানসিক পুষ্টি সাধনের নির্ভরযোগ্য টনিক।
শ্রমের মর্যাদা: যারা পরিশ্রম করে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন তাঁদের সামাজিক মর্যাদাও তত্ত্বা সমুন্নত। প্রশংসীয় মানুষের পরিশ্রমকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। অলস লোকেরা সমাজে ঘৃণার পাত্র। তারা সবসময় পরনির্ভরশীল হতে বাধ্য থাকে। পরিশ্রমী লোক কখনো কোনো কিছুর জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করেন না। যার কারণে পরিশ্রমী মানুষেরা সমাজে সম্মানজনক পর্যায়ে রয়েছেন। পৃথিবীতে যত মানুষ গৌরব অর্জন করেছেন সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই কোনো এক মনীষী বলেছেন, ‘ক্ষুদ্রস্থায়ী জীবনটাকে পরিশ্রম দ্বারা যত বেশি পারা যায় কাজে লাগাইয়া লও।’ বিরলসন কর্ষণছেহাই সমাজের উচ্চস্তরে পৌঁছানোর সহজ সিড়ি।
শ্রমের ক্ষেত্রে নানা দৃষ্টিভঙ্গি: কারো প্রতাশা রেয়ে মানুষ পৃথিবীতে এসেছে। তাই পরিবীর উন্নয়নের জন্য সব মানুষের পরিশ্রম করা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু সকল মানুষের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। তাতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। আর এ বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্যই মানুষ শ্রমের শ্রেণিবিভাগ করেছে। কিন্তু এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে জাতিভেদ প্রথা। এ প্রথার খপ্পরে পড়ে মানুষ হয়েছে লাঞ্ছিত। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে এ ঘৃণিত জাতিভেদ প্রথা মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। যার ফলে শ্রমের শ্রেণি বৈষম্য আমাদের জাতীয় প্রশাসজিকে পঙ্গুত্ব ঢেলে দিয়েছে। কিন্তু উন্নত বিশ্বে এ ধরনের নোংরা দৃষ্টিভঙ্গি নেই। ওরা শ্রম বিভাজনকে শ্রম উন্নয়নের সহযোগী উপায় মনে করে। পাশ্চাত্যের দেশসমূহ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন— জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি দেশ শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিকতম সমৃদ্ধি লাভ করেছে।
পাশ্চাত্য শ্রমের মর্যাদা: পাশ্চাত্যের প্রতিটি দেশেই শ্রমের মর্যাদা সর্বোচ্চ। পরিশ্রমী ব্যক্তি তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়কর ও সম্মানিত। পরিশ্রমী হাতে তারা বিশ্ব অর্থনীতিকে শাসন করছে। তারা বেশি পরিশ্রমী বলে বেশি সফল। শ্রমকে মর্যাদা দেওয়ার কারণেই আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, ফ্রান্স, কানাডা, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো ধনী দেশের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। তারা বৈজ্ঞানিক থেকে শুরু করে মুচির কাজকেও সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। তাদের কাছে উন্নতির চাবিকাটি হলো পরিশ্রম।
আমাদের দেশে শ্রমবিমুখতা: শ্রমবিমুখ মানুষের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। আমরা জাতিতে অলস। আমাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা নেই। ভাগ্যভাগা আমরা সকল শেষির শূকুয়ে সম্মান দিতে জানি না। আমাদের দেশের সামান্য মিস্ত্রি লোকেরাও কারিগর শ্রমকে ঘৃণার চোখে দেখে। শিক্ষিত লোকেরা কুবুদ্ধ, যখুর, জেলে, কুলি, মুচির পাশেই বসতে চায় না। যে আয়রাম-আয়েশে, পৌষিলিভারে দিন কাটায় সে নিজেকে বাবু মনে করে। তাই উন্নতির দিক থেকে আমরা সবার থেকে পিছিয়ে রয়েছি।
জাতীয় জীবনে শ্রমের প্রয়োজনীয়তা: জাতীয় জীবনে শ্রমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীমা। জাতির উন্নতির জন্য শ্রমের গুরুত্ব অতর্কিক। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত। সকল শ্রেণির নাগরিক প্রশংসনীয় হলে জাতীয় জীবন থেকে অভাব দূর হবে। প্রতেক শ্রেণি-পেশার মানুষকে শ্রমের যোগ্য মূল্যায়ন করতে হবে। যুতসই বলা যায়, জাতীয় উন্নতির জন্য প্রয়োজন দলগত পরিশ্রমী করে তোলা।
বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় শ্রমের গুরুত্ব: প্রাচী শক্তি। শ্রমের মাধ্যমেই মানুষ সফল করে নতুন কিছু আবিষ্কারের পথ। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা ইত্যাদি বিকাশের পিছনে শ্রমের মর্যাদা অপরিসীমা। হিমালয়ের হিমালয় জয় আর নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি উদঘাটন-এর পেছনে অসাধারণ শ্রম বিনিয়োগ করতে হয়েছে, এটা ইতিহাস বিখ্যত। সুতর্ং সৃষ্টির সংবাদনা শ্রমের আশীর্বাদের শাখেই নিহিত।
উপসংহার: শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সংকীর্ণ তাগ করতে হবে এবং কোনো শ্রমকেই অবহেলা করা যাবে না। সবার সম্মিলিত শ্রমই একটি জাতিকে সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে। শ্রম মানুষের দুঃখ দূর করে, আর অলসতা হয় দারিদ্রের কারণ। কবির কথার উদৃতি দিয়ে বলতে চাই—
পরিশ্রমে ধন আসে পূণ্য আসে সুখ আলস্য দারিদ্র্য আনে পাপে আসে দুঃখ।
এছাড়াও পড়: স্বদেশ প্রেম রচনা
শ্রমের মর্যাদা রচনা – সহজ
ভূমিকা : আজকের সভ্যতার এ চরম বিকাশের মূলে আছে যুগ-যুগান্তরের লক্ষ-কোটি মানুষের অক্লান্ত শ্রম। বহু মানুষ তাদের শ্রম দান করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছে সভ্যতার এই অনবদ্য তিলোত্তমা মূর্তি। তাদের নাম ইতিহাসে লেখা নেই। সকলের শ্রমের যৌথ প্রয়াসে সম্ভব হয়েছে সভ্যতার এ অনবদ্য বিকাশ। সভ্যতা মানুষের শ্রমেরই সম্মিলিত যোগফল।
শ্রমের গুরুত্ব : মানবজীবনে শ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রম প্রধানত দুই প্রকার- দৈহিক বা কায়িক শ্রম ও মানসিক শ্রম। জীবনের উন্নতির চাবিকাঠি পরিশ্রমের মধ্যেই বিদ্যমান। শ্রমের এই অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনায় শ্রমের মর্যাদা দিতে হবে। উন্নত দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, শ্রমের প্রতি তারা মর্যাদাশীল বলে তাদের উন্নতি এত ব্যাপক হয়েছে। সেসব দেশে ছোট-বড় বলে কোনো পার্থক্য নেই। কাজ যাই হোক না কেন, তাতে কোনো অপমান নেই। কায়িক বা দৈহিক পরিশ্রমে সেসব দেশে কখনো কোনো অশ্লীলতা হয় না।
ভাগ্যরচনা ও প্রতিভা বিকাশে শ্রম : মানুষ একদিকে যেমন সভ্যতার স্রষ্টা, অন্যদিকে তেমনি নিজের ভাগ্যরচয়িতাও। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই আছে সুপ্ত প্রতিভা। পৃথিবীতে যেসব ব্যক্তি প্রতিভাবান বলে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তারা আজীবন কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তার ফলে তাদের প্রতিভা ফুলের মতো বিকশিত হয়ে পৃথিবীকে বিতরণ করেছে অনাবিল সৌরভ।
শ্রম ও জাতিভেদ : সমাজের উন্নতি বিধানের জন্য সব মানুষেরই নিজ নিজ শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশ্রম করা উচিত। কিন্তু সব মানুষের পক্ষে সমাজের সব কাজ করা সম্ভব নয়। সামাজিক বিশৃঙ্খলা পরিহার করার জন্য মানুষ করেছে কর্মের নানা শ্রেণিবিভাগ। এই শ্রেণিবিভাগের পরিণামে সমাজে এসেছে ঘৃণিত জাতিভেদ প্রথা। পৃথিবীর সব দেশেই এই কর্মভিত্তিক, শ্রমভিত্তিক জাতিভেদ প্রথা ছিল। তাতে মানুষকে করা হয়েছে ঘৃণা, মানবতার ঘটেছে চরম অবমাননা।
শ্রমিক লাঞ্ছনা : সমাজের উচ্চতরের লোকেরা গ্রহণ করেছে গৌরবের কাজ। সমাজের সমস্ত সুখ-সুবিধা নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করে তারা তথাকথিত নিম্নশ্রেণির মানুষদের নিক্ষেপ করেছে ঘৃণা ও বঞ্চনার অন্ধকারে। অথচ সেই শ্রমিকেরা চিরকাল মাঠে মাঠে বীজ বুনেছে, ফলিয়েছে সোনার ফসল, তাঁতি তাঁত বুনেছে, জেলে ধরেছে মাছ। অথচ স্বার্থপর সমাজের কাছ থেকে তারাই পায়নি মানুষের মর্যাদা।
শ্রমের জয়: শ্রমিক সমাজ বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানবিক শ্রমকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশে দেশে আজ শ্রমিক সংঘ এবং শ্রমিক কল্যাণ স্বীকৃতি লাভ করেছে। উপেক্ষিত এই শ্রমকে তার যোগ্য সম্মান না দিলে যে সমাজের উত্থান নেই, অগ্রগতি নেই— একথা আজ সারা বিশ্ব স্বীকৃতি লাভ করেছে।
বাংলাদেশে শ্রমের স্থান: বাংলাদেশে শ্রমবিভাগ ছিল প্রধানত বর্ণগত। যারা উঁচু বর্ণের তারা কোনো কাজ করত না। নিচু বর্ণের লোকেরা দৈহিক বা কায়িক পরিশ্রমের কাজ করত। তাতে সমাজে একটা ধারণা জন্মেছিল যে, যারা শারীরিক পরিশ্রম করে তারা সমাজে সম্মানের পাত্র নয়। এটাই আমাদের অবনতির মূল কারণ।
শ্রমের সুফল: পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি ও দেশ তত উন্নত। পৃথিবীর মানুষ ছিসেবে সব কাজই মানুষের করণীয়। তাতে যেমন কাজের কোনো জাতিভেদ নেই, যারা সেই কাজ করে তাদেরও কোনো জাতিভেদ নেই। সুতরাং পরিশ্রম করা মোটেই সম্মান হানিকর নয়। এতে ব্যক্তির আত্মসম্মান যেমন হয়, তেমনি হয় দেশের কল্যাণ। শ্রমবিমুখ জাতির পতন অনিবার্য। জগতের মহামনীষীরা সকলেই পরিশ্রম করেছেন এবং শ্রমের মর্যাদা দিয়ে গেছেন।
উপসংহার: জীবনের সর্বক্ষেত্রে শ্রমের গুরুত্ব অপরিসীমা। মানুষের পরিশ্রমকে কোনো সমাজ কোনো কালেই তার পরিশ্রমেই জীবনের প্রকৃত আনন্দ। পরিশ্রমই জীবনের অপেক্ষ দুঃখকষ্ট থেকে মানুষকে মুক্তির সম্ভান দেয়। তাই সকল প্রকার শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।



