মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা – ক্লাস ৬,৭,৮, এসএসসি, এইচএসসি

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা– মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা আমরা দুইটা নমুনা দিয়ে উপস্থাপন করেছি, তোমাদের ক্লাস অনুযায়ী যেকোন একটা শিখে নাও। এর চেয়ে বড় অথবা ছোট রচনার প্রয়োজন হলে আমাদের কমেন্ট করে জানাবে। তাহলে পড়া শুরু কর।

পোস্টের বিষয়বস্তুরচনা লিখন
রচনার টপিকমানব কল্যাণে বিজ্ঞান
প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহক্লাস ৬, ৭, ৮,৯,১০, এসএসসি, এইচএসসি
নমুনা আছে২টি

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২৫ পয়েন্ট

ভূমিকা :
ইংরেজি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে— “Necessity is the mother of invention”— অর্থাৎ, প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জননী। জীবনসংগ্রামের তাগিদেই মানুষ অজানাকে জানতে চেয়েছে। অজানাকে জানার ইচ্ছা জন্ম দিয়েছে বিজ্ঞানের, আর বিজ্ঞান দিয়েছে মানুষকে গতি, সেই সঙ্গে নিশ্চিততার আশ্বাস। শুরু হলো বিজ্ঞানের জয়যাত্রা। ক্রমে অজ্ঞতার অন্ধকার বিদূরিত হলো বিজ্ঞানের সাধনায়।

বিজ্ঞানচেতনার প্রসার :
সেই আদিম যুগে গোষ্ঠীবদ্ধ যাযাবর মানুষের জীবনে যুগান্তর আনল আগুনের আবিষ্কার আর কৃষিকাজ প্রচলন। এ সময় বয়ন শিল্পেরও উদ্ভব ঘটে। ভারী জিনিস সহজে তোলার জন্য এ সময় মানুষ কপিকল, আলগা প্রভৃতি যন্ত্রের সাহায্য নিতে শিখেছিল। ‘প্যাপিরাস’ জাতীয় নলখাগড়া থেকে মিসরের মানুষ প্রথম লেখার উপযোগী কাগজ তৈরি করল। ইরাক অঞ্চলের লোকেরা প্রথম চাকারযুক্ত গাড়ি বানিয়ে পরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তর আনল। পানি তোলার উপযোগী বিশেষ ধরনের পাম্প এবং যন্ত্রচালিত ঘড়ি প্রথম আবিষ্কৃত হয় চীনে। গ্রিসের মানুষেরা প্রথম পৃথিবী ও মহাকাশের মানচিত্র বানায়। প্রাণিবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, স্থাপত্যবিদ্যা এবং জ্যামিতির ক্ষেত্রে গ্রিক বিজ্ঞানীদের দান কম ছিল না। অন্যদিকে বীজগণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, শল্যচিকিৎসা, রসায়নশাস্ত্র, জীববিদ্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রাচীন ভারতের ও আরবদেশের বিজ্ঞানীরা যেসব তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছিলেন, তা মানুষের জীবনযাত্রাকে যথেষ্ট সহজ করে দেয়।

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা :
বিজ্ঞানের বলে মানুষ আজ খনির অন্ধকারে আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞানের শক্তিবলে মানুষ দানবীয় নদীপ্রবাহকে বশীভূত করে উর্বর মরুভূমিকে করেছে জলসিক্ত, ভূগর্ভের সঞ্চিত শস্য-সম্ভাবনাকে করে তুলেছে সফল, দূর করে দিয়েছে পৃথিবীর অনুর্বরতার অভিশাপ। বিজ্ঞান আজ উর্বরতা দিয়ে শুষ্ক মরুভূমিকে শস্যভূমিতে পরিণত করেছে। নব নব শিল্প প্রকারণে সে উৎপাদন জগতে এনেছে যুগান্তর এবং সুদূরকে করেছে নিকটতর। বিজ্ঞানের সাফল্যে বসুধা আজ কল্যাণমুখর।

মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের অবদান :
দৈনন্দিন জীবনে মানুষ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে পূর্ণরূপে কাজে লাগিয়েছে উনিশ শতকে। এ সময়ই মানুষ বাষ্পশক্তিকে নানা কাজে ব্যবহার করতে শেখে। তারপর আমরা ক্রমে ক্রমে বিদ্যুৎশক্তিকে কাজে লাগাতে শিখলাম। বিশ শতকে জ্বালানি কয়লা ছাড়াও পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, এমনকি পারমাণবিক শক্তিকে মানুষের কল্যাণের কাজে লাগাতে পেরেছি।

বাষ্পশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের রান্নাঘরে প্রেসারকুকার গৃহস্থালির কাজকে সহজ করে দেয়। তার সঙ্গে থাকে বৈদ্যুতিক বা গ্যাসের চুলা, এমনকি সৌরশক্তি। বায়োগ্যাস কোনো অঞ্চলে গ্রামের ঘরে ঘরে আলো জ্বলে, তাতে রান্নার কাজ সহজ হয়। পরিবহন ব্যবস্থায় বিজ্ঞান যে কী সীমাহীন যুগান্তর এনেছে, রোগনিরাময়েও তার ভূমিকা কম নয়। আমোদ-প্রমোদের ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও ভিডিও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে গেছে। সৌরশক্তি চালিত পকেট ক্যালকুলেটর করে দিচ্ছে দ্রুত হিসাব-নিকাশ। গৃহস্থালির কাজে রান্নার জন্য রয়েছে কুকিং রেঞ্জ, মসলা বাটা ও নানা খাদ্য গুঁড়া করার মেশিন, রয়েছে বাসন ও কাপড় ধোয়ার যন্ত্র। এছাড়া ঘর সাজাই মেশিন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টাইম থেকে শুরু করে ছোটদের জন্য রয়েছে ইলেকট্রনিক খেলনা।

রেডিও বা টেলিভিশনের প্রচারী যন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে আমরা। বিজ্ঞানের কৌশলে তৎক্ষণাৎ করে পানি এসে যায়। প্রয়োজনমতো কখনো সেই পানি উষ্ণ, কখনো বা শীতল। গরমের সময় বৈদ্যুতিক পাখা না হলে আমাদের চলে না। ধনী লোকেরা এয়ারকুলার ব্যবহার করতে পারে। টেলিফোনের সাহায্যে হাজার হাজার মাইল দূরের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের যোগাযোগ নেওয়া যায়। প্রতিদিন বাজারে যাওয়ারও প্রয়োজন হয় না। বিজ্ঞানের উন্নত ফ্রিজের মধ্যে কয়েকদিনের বাজার এনে রেখে দেওয়া যায়। বাস, ট্রেন ও ট্রাকের সাহায্যে দ্রুতগতিতে স্থানান্তরিত হওয়া যায়। এ সবই হচ্ছে বিজ্ঞানের কল্যাণ।

মানবকল্যাণে চিকিৎসাবিজ্ঞান :
আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষ মৃত্যুর কবল থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হচ্ছে। রঞ্জন-রশ্মি এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফির সহায়তায় শরীরের অদৃশ্য বস্তু দৃশ্যমান হয়েছে। রেডিয়াম ক্যান্সারের মতো ভয়ংকর ক্ষতের মারাত্মক বিক্রিয়াকে অনেকাংশে প্রতিরোধ করেছে। পেনিসিলিন, ক্লোরোমাইসিন ও স্টেপটোমাইসিন ইত্যাদি মহৌষধ আবিষ্কারের ফলে কোটি কোটি মানুষ নানা দুরারোগ্য ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। দুরারোগ্য সংক্রামক ব্যাধি বসন্তের জীবাণু নির্মূলের জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন এডওয়ার্ড জেনার। এভাবেই বিজ্ঞানের কল্যাণে আমাদের বহু অভাব দূরীভূত হয়েছে।

উপসংহার :
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে এক হয়ে গেছে বিজ্ঞান। মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের দানই শ্রেষ্ঠ। এজন্য বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীর কাছে মানুষ চিরঋণী। বিজ্ঞানকে বাদ দিলে আজ আমাদের বেঁচে থাকা দুরূহ। বিজ্ঞানকে যদি ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার না করে মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তবে মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

আরো পড়ুন: শ্রমের মর্যাদা রচনা

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট

ভূমিকা : সৃষ্টির শুরু থেকেই মানবজাতি প্রকৃতির সকল প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে অদম্য উৎসাহ নিয়ে নিত্যনতুন আবিষ্কারের নেশায় অগ্রসর হতে চলেছে। মানবজাতির এ গৌরবময় জয়যাত্রার গতিময়তায় প্রেরণা জুগিয়েছে বিজ্ঞান। বর্তমান সভ্যতায় সর্বত্রই বিজ্ঞানের অবিচ্ছেদ্য উপস্থিতি। বিজ্ঞানের নিরলস প্রচেষ্টায় মানুষ সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছে গেছে। আজ বিশ্বসভ্যতায় বিজ্ঞানেরই রাজত্ব চলছে।

বিজ্ঞান কী : ‘বিজ্ঞান’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘বিশেষ জ্ঞান’। বিজ্ঞান মানুষের কঠিন সাধনায় অর্জিত হয়েছে। অতি প্রাচীনকাল থেকে মানুষ তার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে কোনো ধারণাকে বিশ্লেষণ করেই আবিষ্কার করে বিশেষ কোনো জ্ঞান। এভাবেই সূচনা হয় বিজ্ঞানের। এই বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অজানার সন্ধান। বিজ্ঞান-সাধনা মানুষের জীবনে বহন করে এনেছে নতুন যুগধারা। বিজ্ঞানকে মানুষ প্রয়োগ করতে আরম্ভ করেছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি মুহূর্তে।

বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার : মানুষের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োগ আজকের দিনে অপরিসীম। বিজ্ঞানের সহায়তায় মানুষ বিভিন্ন পদার্থ ও প্রাণীকে অবলোকন করে সন্ধান পেয়েছে এক আশ্চর্য জগতের। বিভিন্ন পদার্থকে উৎপাদন করে আবিষ্কৃত হয়েছে কত যুগান্তকারী বস্তু; আবার জীবজগতের বিস্ময়কর গবেষণালব্ধ ফলাফল পৃথিবী লাভ করেছে কত বিচিত্র বিষয়। ইতিহাসে মানুষের প্রথম আবিষ্কারের গৌরব হচ্ছে আগুন। মানুষ যখন আগুন আবিষ্কার করতে শিখল তখন থেকে মানবজাতির ইতিহাসে আরম্ভ হলো এর নতুন পর্যায়। ক্রমে মানুষ শিখল আগুনের ব্যবহার। এক কৌতূহল জাগিয়ে তোলে আর এক কৌতূহলকে। কৌতূহলের বসে মানুষ পা বাড়ালো পরীক্ষানিরীক্ষার পথে। সৃষ্টি হলো নিরীক্ষাগার। প্রতিটি বিষয় ও বস্তুকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ।

বিজ্ঞানের ব্যবহার : আগুন দিয়ে যে অগ্রগতি সূচিত হলো, সেই অগ্রগতির পথ ধরেই মানুষ এগিয়ে চলল সামনের দিকে। মানুষ তার জীবনকে প্রসারিত করে দিতে চেষ্টা করল স্থলে, জলে, মহাকাশে— জগতের সর্বত্র। সুখে বেঁচে থাকার জন্য, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনের জন্য মানুষের অপরিসীম আগ্রহে একে একে উন্মোচিত হতে থাকল বিজ্ঞানের বিভিন্ন উপহার। আজকের যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বর্তমান যুগের মানুষের জীবন বিজ্ঞানলব্ধ উপকরণের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, বিজ্ঞানকে আজ অপ্রয়োজনীয় মনে করা অসম্ভব। পৃথিবী আজ ছোটো হয়ে এসেছে শুধু বিজ্ঞানের কল্যাণে। আজকের যুগে বেলুন বা জেপেলিনের নাম কেউ বড়ো একটা জানে না। কিন্তু অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ দিয়ে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো কোনো সমস্যাই নয়। ফোন, ফ্যাক্স, টেলেক্স প্রভৃতি মানুষকে দিয়েছে ঘরে বসে প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ। টেলিভিশনের পর্দায় আমরা দেখতে ও শুনতে পাই ইহার তরঙ্গে। চোখে দেখা ছবি ও শব্দ। চিকিৎসাবিদ্যায় বিজ্ঞান হচ্ছে মূল ভিত্তি। হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি, ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক সকল পদ্ধতিই বিজ্ঞাননির্ভর। আজকের যুগে রান্নাঘর পর্যন্ত মানুষ বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে চলতে পারে না। মানুষ আজ মহাকাশে, চন্দ্রপৃষ্ঠে বসতি স্থাপনের চিন্তা করছে। রোবট বা যন্ত্রমানব আজ অসাধ্য সাধন করছে। আধুনিক যুগের বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার মানুষের সামনে এক অজানা জগতের সিংহদ্বার। অতল সমুদ্রতলে, সহস্র কোটি যোজন দূর মহাকাশে, মুক্তির মরুদ্বীপে বিজ্ঞান আজ প্রয়োজন মেটাচ্ছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান : বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাহায্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। পৃথিবীতে বলতে গেলে দু–একটি রোগের চিকিৎসার গবেষণা এখন গবেষণাগারের নির্দিষ্ট স্তর অতিক্রম করতে পারেনি। যেমন— ক্যানসার, এইডস প্রভৃতি। এছাড়া চিকিৎসার অসাধ্য রোগ বোধ হয় বিশেষ নেই। এক সময় অস্ত্রোপচার করতে হতো পাশবিক যন্ত্র দিয়ে। তারপর আবিষ্কৃত হয় অজ্ঞান করার পদ্ধতি। এখন অস্ত্রোপচার করাও প্রায়োজন হয় না। আধুনিক যুগের ‘জিন প্রযুক্তি’ মানবজগতে খুলে দিয়েছে অনেক সম্ভাবনার দ্বার। ‘ডলি’ নামের ক্লোনেড ভেড়াটি সারা পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে।

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান : কৃষিকাজ মানুষের সমাজে অপরিহার্য। খাদ্য, বস্ত্র প্রভৃতি প্রয়োজন মেটাতে প্রয়োজন হয় কৃষিজাত বস্তু। জনসংখ্যা অনুপাতে খাদ্যসামগ্রী উৎপাদিত না হলেই দেশে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রস্তুত করা হয় সার। কোনো কোনো দেশে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়। সবই করা হয় বিজ্ঞানের সহায়তায়। এমনকি বিজ্ঞানের সাহায্যে যেমন জমির উর্বরতা বাড়ানো হয়, তেমনি বাড়ানো হয় ফসলের পরিমাণ। আজ আর কৃষিকাজ প্রকৃতির দয়ার উপর নয়। জমি চাষ থেকে আরম্ভ করে ফসল মাড়াই–ঝাড়াই পর্যন্ত সব কাজই সম্পন্ন হয় বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে।

শিল্পক্ষেত্রে বিজ্ঞান : শিল্পের প্রসার হয় জীবনের প্রয়োজনে। এক সময় মানুষ ছিল অরণ্যবাসী। ক্রমে গাছের বাকল এবং পশুর চামড়া পরতে শিখল। ‘পরতে শেখার’ অভ্যাস থেকেই তার আরামবোধের উৎপত্তি। ফলে, মানুষ গাছের আঁশ বুনে শিল্প কাপড় তৈরি করতে লাগল। এভাবেই নিত্যব্যবহার্য তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, সাজসজ্জা, পরিবহন প্রভৃতির প্রয়োজনে মানুষের জীবনে ঘটল শিল্পের প্রসার। আদিম যুগে যদিও এগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। আসলে এগুলোও বিজ্ঞানেরই বিভিন্ন প্রকারের বিকাশ। বর্তমান যন্ত্রযুগে সব ধরনের শিল্পই যন্ত্রনির্ভর। যন্ত্র এবং তার ব্যবহার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয় বিজ্ঞানকে ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, বিজ্ঞানই ঘটিয়েছে শিল্পের বিকাশ, প্রসার ও বহুমুখী ব্যবহার।

বিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রত্যাশা : সময় যত অগ্রসর হচ্ছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ততই বিস্তৃতি লাভ করছে। ফলে, মানুষের বিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রত্যাশাও বেড়ে চলেছে। মানুষ সুস্থ–স্বাভাবিক দীর্ঘ জীবন নিয়ে বাঁচতে চায়। এটা মানুষের সবচেয়ে তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য মানুষ বিজ্ঞানের প্রতি নির্ভরশীল। মানুষ চায় ভবিষ্যতে পৃথিবী আরও উন্নত হবে— বিজ্ঞানের দ্বারাই ঘটবে পৃথিবীর এ উন্নতি। সে উন্নত পৃথিবীর ফল ভোগ করবে মানুষ। মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বিজ্ঞানেরই বাড়িয়ে তুলবে।

উপসংহার : বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও ব্যবহারের ফলে হয়েছে কিছু অকল্যাণ মানুষের জন্য ঘটেছে। যেমন— এটম বোমার ব্যবহার। কিন্তু এই আপারিক শক্তিকে ব্যবহার করেই কঠিন রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। তাই বলা যায়, বিজ্ঞানের কিছু অকল্যাণকর দিক থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞান আসলে ঘটাচ্ছে মানুষেরই কল্যাণ। ভবিষ্যতের অনাগত পৃথিবীতে হয়তো বিজ্ঞানই বয়ে আনবে মানুষের জন্য অধিকতর কল্যাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top