অধ্যবসায় রচনা: অধ্যবসায় রচনা দুইটি নমুনাতে লেখা হল যা ক্লাস ৬,৭,৮, এসএসসি, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। এছাড়াও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরিক্ষায় এই রচনা ব্যবহার করতে পারবে। সময় নস্ট না করে এখনি শিখে নাও।
| পোস্টের বিষয়বস্তু | রচনা লিখন |
| রচনার টপিক | অধ্যবসায় |
| প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহ | ক্লাস ৬, ৭, ৮,৯,১০, এসএসসি, এইচএসসি |
| নমুনা আছে | ২টি |
অধ্যবসায় রচনা – ২০ পয়েন্ট
সংকেত : ভূমিকা, অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা, ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব, ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব, জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব, অধ্যবসায়ের প্রতিবন্ধকতা, অধ্যবসায়ই সাফল্যের চাবিকাঠি, উপসংহার।
ভূমিকা : কোনো কাজে একবার ব্যর্থ হলে তাতে সফলতা লাভ করার জন্য বারবার চেষ্টা বা সাধনা করার নামই অধ্যবসায়। মূলত অধ্যবসায় হলো কয়েকটি গুণের সমষ্টি। পরিশ্রম, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে অধ্যবসায় পূর্ণতা লাভ করে। আবার মনের আশা ও বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপদানের জন্য সুদৃঢ় সংকল্প নিয়ে পরিশ্রম করাকেও চেষ্টার পুনরাবৃত্তিকে অধ্যবসায় বলে। সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতন, ব্যর্থতা-সফলতা এগুলো সাপেক্ষ পদ। অর্থাৎ একটি অপরটির উপর নির্ভরশীল। বাস্তব জীবনে ব্যর্থতা ও সফলতা পাশাপাশি অবস্থান করে এবং একটির পর অপরটি ক্রমশ আসে। তাই কোনো কাজে বিফল হলে তাতে হাল না ছেড়ে সংযম অবলম্বন রাখতে হবে। কারণ, ‘Life means struggle’ আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই একদিন সফলতার চরম শিখরে আরোহন করা সম্ভব হয়। অধ্যবসায় সফলতার চাবিকাঠি। অধ্যবসায় ছাড়া মানবজীবনে উন্নতির আশা কল্পনা মাত্র। তাই জীবনে বড় হতে হলে আমাদের সবাইকে অধ্যবসায়ী হতে হবে।
অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা : মানবসভ্যতার মূলে অধ্যবসায়ের এক বিরাট মহিমা রয়েছে। মানবজীবনের যেকোনো কাজে ব্যর্থতা আসতে পারে, কিন্তু সে ব্যর্থতাকে ভয় পেয়ে বসে থাকলে চলবে না। কারণ জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে যাবার অর্থ হলো জীবনকে অস্বীকার করা। রাতের আঁধার পেরিয়ে যেমন দিনের আলো এসে দেখা দেয়, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও ব্যর্থতার পর আসে সফলতা। সকল ধর্মগ্রন্থেই অধ্যবসায়কে অন্যতম চারিত্রিক গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যথার্থ অধ্যবসায় না থাকলে বা এর যথার্থ প্রয়োগ না হলে মেধা বা সুযোগ কোনোকিছুই চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিতে পারে না। মানুষকে জীবনে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। মানুষের অন্তর্নিহিত লক্ষ্য পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়। তাই নিজেকে সার্থক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী নয় সে মনের দিক থেকে দুর্বল। ফলে তার দ্বারা সমাজের কোনো উন্নতি হয় না। প্রকৃতপক্ষে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিশ্রম ও ব্যর্থতাকে জয় করার প্রধান উপায় হলো অধ্যবসায়। কথায় আছে ‘Failure is the pillar of success’।
বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক লেখক আলেকজান্ডার কামু তার মিথ ‘অফ সিসিফাস’-এ দেখিয়েছেন, নায়ক একটি ভারী পাথর পাহাড়ের ওপর বয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পাথরটি বারবার শত শত ফুট নিচে পড়ে যাচ্ছে। আবার তাকে সেই পাথর উপরে তুলতে হচ্ছে। এই ছিল তার নির্ধারিত শাস্তি। কিন্তু তারপরও সে দমে যায়নি। পাথরখণ্ডটি যতবার নিচে পড়ে যাচ্ছে, পুনরায় তা উপরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। একথা সত্য যে, সফলতাহীন কাজে কোনো সুখ নেই, আনন্দ নেই। কিন্তু নায়ক পরাজয়কে স্বীকার না করে যতবার পড়ে যায় ততবারই পাথরখণ্ডটি টেনে তোলে। এটাই অধ্যবসায়। ও সাধনা যার মধ্যে আছে সে কখনো হারতে পারে না। তেমনই পৃথিবীর মানুষ এমন অক্লান্ত ও অবিরাম অধ্যবসায়ী প্রচেষ্টাই বেছে নিয়েছে। প্রবল অধ্যবসায়ের বলেই তারা সফল হতে হবে।
ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব : অধ্যবসায় ব্যক্তিজীবনেও সফলতা এনে দিতে পারে। ব্যক্তিজীবনের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য বুদ্ধির বিকাশ, সুদৃঢ় সংকল্প ও কাজের প্রতি আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। এগুলো ছাড়া জীবনে কোনো কিছুই অর্জন করা সহজ নয়। তাই জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার জন্য অধ্যবসায়ের গুরুত্ব রয়েছে। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যক্তি তার জীবনের ইচ্ছিত ফল পেতে পারে।
ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব : ছাত্রজীবনে যে অধ্যবসায়ের প্রয়োজন রয়েছে, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেখানে সাফল্য চাই, সেখানেই অধ্যবসায়কে যোগ করতে হবে। যে ছাত্র একবার পরীক্ষায় ফেল করে দ্বিতীয়বার আর ফলের ভয়েই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে না, অধ্যবসায়ী হওয়ার চেষ্টা করে না, সে জীবনে কখনো সফলতা লাভ করতে পারে না। ছাত্রদের জানা উচিত ‘Diligence is the mother of good luck’ (Franklin)। অনেকেই মনে করেন যারা জীবনে বড় হয়েছে তারা অত্যন্ত মেধাবী ও অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। প্রতিভা কারও একক অধিকার নয়। তা সবারই থাকে, তবে একে যথাযথ কাজে লাগাতে হয়। এ সম্পর্কে ভল্টেয়ারের কথা স্মরণযোগ্য, ‘লোকে আমাকে প্রতিভাবান বলে, কিন্তু আমি পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জানি না।’ আবার ভল্টেয়ার বলেছেন, ‘প্রতিভা বলে কিছু নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও, তাহলেই প্রতিভাকে অতিক্রম করতে পারবে।’ জীবন যুদ্ধে সফলতার মূল চাবি যে অধ্যবসায় তা ইতিহাসের পাতা উল্টালেই সহজেই প্রমাণ হয়। বিজ্ঞানী নিউটন বলেন, ‘আমি সারা জীবন শুধু সমুদ্র তীরে বালু কুড়িয়ে খেলেছি, সমুদ্রের বিশাল জলরাশি আর দেখা হয়নি।’ উক্তিটি থেকে প্রমাণিত হয় যে, তার অধ্যবসায়ের দৌড় কতদূর ছিল। নেপোলিয়ান জীবনে অসম্ভব বলে কিছু জানতেন না। তাই তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘Impossible is a word found in the dictionary of the fools।’ তার সেদিনের সে উক্তি ও সফলতা তার অদম্য অধ্যবসায়ের ফল। আর এরকম দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় অসংখ্য। তাই বোঝা যায়, জীবনে সফল হতে হলে অধ্যবসায়ী হওয়া একান্তভাবে আবশ্যক।
জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব : জাতির উন্নয়নের জন্য সকল জনগণকে অধ্যবসায়ী হতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি জাতিকে উন্নতির দ্বারে এগিয়ে নিতে পারে। বর্তমানে যেসব জাতি উন্নতির শিখরে অবস্থান করছে, তা সম্ভব হয়েছে কেবল অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের কারণে। পূর্বের ইতিহাস তার উজ্জ্বল প্রমাণ। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অধ্যবসায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়।
অধ্যবসায়ের প্রতিবন্ধকতা : অধ্যবসায়ের মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অলসতা। এছাড়াও সংশয় ও মনোসংযোগের অভাব অধ্যবসায়ের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অলসতা, সংশয় ও মনোসংযোগের অভাবে মানুষ সাধারণত নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। অধ্যবসায়ের ক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা ইচ্ছা থাকলেই কোনো না কোনো উপায় বের হয়ে আসে। কেবল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমেই মানুষ প্রতিকূল পরিবেশকে অনুকূলে আনতে পারে।
অধ্যবসায়ই সাফল্যের চাবিকাঠি : যেকোনো কাজে সফলতা অর্জনের জন্য চাই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় ছাড়া কোনো কাজে সফল হওয়া যায় না। ইতিহাসের পাতায় যারা আজও অমর হয়ে আছেন, তারা অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই সফল হতে পেরেছিলেন। তারা ব্যর্থতাকে জয় করে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়কেই জীবনের একমাত্র মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। স্কটল্যান্ডের রাজা এডওয়ার্ডের সঙ্গে ছয়বার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বিশাল মনে বন-জঙ্গলে ঘুরছিলেন। তখন একদিন এক মাকড়সাকে শতবার চেষ্টা করে সুতা জড়াতে দেখে তিনি অন্য উৎসাহ নিয়ে সপ্তমবারের মতো শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেন। আবার মহাকবি ফেরদৌসী দীর্ঘ তিরিশ বছর সাধনা করে রচনা করেন অমর মহাকাব্য ‘শাহনামা’। তাই বলা যায়, একমাত্র অধ্যবসায়ই মানবজীবনে সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে এবং অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
উপসংহার : অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনে জয়ী হওয়া যায়। তাই সফল নামক সোনার হরিণের জন্য আমাদের অধ্যবসায়ী হতে হবে। জীবনে একবার সফলতা আসলে আর পিছু পা হতে হয় না। এ প্রসঙ্গে Chamfort-এর উক্তিটি স্মরণীয় ‘Success makes success or money makes money’। ইতিহাস থেকে জানা যায় পৃথিবীর অধিকাংশ জ্ঞানী-গুণী, দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও পণ্ডিতরা ছিলেন চাষাভূষা, শ্রমিক, দরিদ্র, মুষ্টিমেয় পরিবার লোকের সন্তান। তারা আজ এত বড় হয়েছেন শুধু অধ্যবসায়ের শক্তিতেই। তাদের মনে ছিল বড় সাহস ও জানার প্রবল আগ্রহ, অন্যকিছু নয়। তাই কবি তার কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন—
“পারিব না এ কথাটি বলিও না আর,
একবার না পারিলে দেখ শতবার।”
এছাড়াও পড়তে পারঃ ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা
অধ্যবসায় রচনা – ১০ পয়েন্ট
ভূমিকা : মানুষ আজ পর্যন্ত যতগুলো অভাব আয়ত্ত করেছে তার মধ্যে অধ্যবসায়ই শ্রেষ্ঠ। এর বলে মানুষ অসাধ্যকে সাধন করতে পারে, অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। জীবনের সর্বক্ষেত্রেই অধ্যবসায়ের প্রয়োজন। অধ্যবসায় ছাড়া কঠিন কাজে সাফল্য লাভ করা যায় না। শত বাধাবিপত্তির সাথে লড়াই করে যে জয়ী হতে পারে, সে-ই জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে।
অধ্যবসায় পরিচিতি : কোনো কাজে সাফল্য লাভের জন্য বারবার চেষ্টা করার নাম অধ্যবসায়। অধ্যবসায় একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। প্রকৃতপক্ষে অধ্যবসায় বলতে মানব চরিত্রের কতকগুলো বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে বোঝায়। উদ্যোগ, পরিশ্রম, আন্তরিকতা, মনোবল প্রভৃতি গুণ একত্রিত হয়ে অধ্যবসায়ের পরিপূর্ণ রূপ সৃষ্টি করে। মনের দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের অন্যান্য গুণ যখন কাজে লাগানো হয় তখনই অধ্যবসায়ের পরিচয় পাওয়া যায়। অধ্যবসায়ের বলেই মানুষ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। জগতের সর্বত্রই অধ্যবসায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা : অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুভব করা যায়। মানবজীবনে প্রত্যেক কাজেই বাধাবিপত্তি দেখা দিতে পারে। কিন্তু সে বাধাকে ভয় করলে চলবে না। সেসব বাধা অতিক্রম করে যথার্থ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করাই জীবনের প্রধান লক্ষ্য। জীবনের এই চলার পথ সহজ করার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়ের। জীবনের পথে যেসব বাধা থাকে সেসব জয় করতে না পারলে মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। হৃদয়ের প্রবল শক্তি এবং সাহস দিয়ে সকল বাধা জয় করতে হয়। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই জয় এবং সাফল্য আসে।
অধ্যবসায় ও প্রতিভা : কেউ কেউ মনে করেন, অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী না হলে বড়ো কাজ সাধন করা যায় না। কিন্তু অধ্যবসায় ও পরিশ্রম ছাড়া শুধু প্রতিভায় কাজ হয় না। মহাবিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন বলেছেন, “আমার আবিষ্কারের কারণ প্রতিভা নয়, বহু বছরের চিন্তাশীলতা ও পরিশ্রমের ফলে দুরূহ তত্ত্বগুলোর রহস্য আমি ধরতে পেরেছি। অস্পষ্টতা হতে ধীরে ধীরে আমি স্পষ্টতার দিকে উপস্থিত হয়েছি।” দার্শনিক ভলতেয়ার বলেছেন, “প্রতিভা বলে কিছুই নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও, তাহলেই প্রতিভাকে অতিক্রম করতে পারবে।” ডালটন বলেছেন, “লোকে আমাকে প্রতিভাবান বলে, কিন্তু আমি পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই জানি না।” অর্থাৎ, প্রতিভাকে সফল করতে হলে অধ্যবসায় প্রয়োজন।
ছাত্রজীবনে অধ্যবসায় : ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের একান্ত প্রয়োজন। অলসপ্রবণ ও শ্রমবিমুখ ব্যক্তি কখনও বিদ্যা লাভ করতে পারে না। অল্প মেধাসম্পন্ন ছাত্রও অধ্যবসায়ী হলে সাফল্য লাভ করতে পারে। কোনো ছাত্র একবার অকৃতকার্য হলে হয়তো পরিবার থেকে তাকে নানা ভর্ৎসনা শুনতে হয়, তাই বলে তাকে উদ্যম বা ধৈর্যহারা হলে চলবে না। আগের চেয়ে অধিক মনোবল নিয়ে তাকে চেষ্টা করতে হবে। তবে সাফল্য আসবেই।
ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব : যেকোনো ব্যক্তির জীবনে অধ্যবসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সকল মানুষের শক্তি বা ক্ষমতা এক রকম নয়, কিন্তু প্রত্যেককেই উন্নত জীবনের সম্ভাবনা পেতে হয়। সেখানে যদি অধ্যবসায়ের যথার্থ প্রয়োগ করা যায় তবে শক্তির স্বল্পতা সাফল্যের পথে কোনো বাধা হয়ে থাকতে পারে না। কাজের আগ্রহ, বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, সুদৃঢ় সংকল্প এসব যদি ঠিক থাকে তবে কোনো ব্যক্তিই কোনো কাজে ব্যর্থ হয় না।
জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব : জাতীয় জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব কম নয়। কোনো জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সে জাতির সকল নাগরিককে অধ্যবসায়ী হতে হবে। সবাই একনিষ্ঠভাবে জাতীয় স্বার্থ সাধনের জন্য সর্বশক্তি নিয়ে আত্মনিয়োগ করলেই মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করা সম্ভব। অবশ্য ব্যক্তিজীবনে অধ্যবসায়ের ফল জাতীয় জীবনের বৃহত্তম কল্যাণে আসে। বিশ্বের জ্ঞানী, মনীষী, আবিষ্কারক, ধর্মপ্রচারক, রাষ্ট্রনায়ক, কবি, সাহিত্যিক, সমাজসংস্কারক সকলেই অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছেন।
অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত : জীবন সংগ্রামে সাফল্যের মূলমন্ত্র অধ্যবসায়। ইতিহাসের পাতা উল্টালে এ ধরনের বহু দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। ইতিহাসে চিরস্মরণীয় অর্থনীতিবিদ নেপোলিয়ন তাঁর কর্মের ভেতর দিয়ে রেখে গেছেন অধ্যবসায়ের অপূর্ব নিদর্শন। কোনো কাজকেই তিনি অসম্ভব বলে মনে করতেন না। তাই তিনি এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও একমাত্র অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ফরাসি জাতির ভাগ্যবিধাতার পদে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু বহুদিন অধ্যবসায় চালিয়ে উদ্ভিদের চেতনাশক্তি ও স্পন্দন সম্পর্কে তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। এমনিভাবে বহু মনীষী তাঁদের অধ্যবসায় দ্বারা অবদান রেখে পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন।
উপসংহার : মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অধ্যবসায় একান্ত প্রয়োজন। যে অধ্যবসায়ী নয়, সে কখনও কোনো কাজে সফল হতে পারে না। বনবাসীর মতো খেয়ে পরে সে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় এবং মৃত্যুর সাথে সাথে তার নাম আর কেউ স্মরণ করে না। একমাত্র অধ্যবসায়ী লোকই তার কর্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকেন।



