সময়ানুবর্তিতা রচনা – ক্লাস ৬,৭,৮,৯,১০, এসএসসি, এইচএসসি

সময়ানুবর্তিতা রচনা: আজকে তোমরা শিখতে পারবে সময়ানুবর্তিতা রচনা ২টি নমুনার মাধ্যমে যথা- ২০ ও ২৫ পয়েন্ট। সকল শ্রেণির জন্য উপযোগী করে লেখা আজকের এই রচনাটি যাদের লাগবে দ্রুত শিখে নাও। কোন মতামত থাকলে আমাদের জানাও।

পোস্টের বিষয়বস্তুরচনা লিখন
রচনার টপিকসময়ানুবর্তিতা
প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহক্লাস ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, এসএসসি, এইচএসসি
নমুনা দেয়া হয়েছে২টি (২০, ২৫ পয়েন্ট)

সময়ানুবর্তিতা রচনা – ক্লাস ৬,৭,৮, ৯-১০

ভূমিকা : সময় নিরবধি বয়ে চলে। তার চলার শেষ নেই, কিন্তু মানবজীবন সংক্ষিপ্ত। এখানেই গরমিল। মানুষ চায় তার সংক্ষিপ্ত জীবনযাপনের মধ্যে বহুতর কর্মের উদ্যান। কিন্তু সময় তা মঞ্জুর করে না। কর্ম উদ্যানের আগেই তার বিদায়ের ডাক এসে পড়ে। মানুষের কাছে সময় তাই অমূল্য ধন। সময় চলে যায় নদীর স্রোতের মতো। চিরচলন অবস্থানই তার মৌল বৈশিষ্ট্য।

সময়ের গুরুত্ব : সময়ের ধারাবাহিকতার জন্যই জীবন মানুষের কাছে পরম মূল্যবান। সময় অনন্ত, কিন্তু জীবন সীমাবদ্ধ। তার এক প্রান্তে জন্ম, অন্য প্রান্তে মৃত্যু। এই জন্ম ও মৃত্যুর সন্ধানে জীবন সদা সংকুচিত। মানুষ চায় সময়ের অসীমতার মতো অসীম জীবন; কিন্তু পায় না। মানবজীবনের চরম ট্র্যাজেডি এখানেই। তাই সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব সম্পর্কে যথার্থ সচেতন থাকা প্রয়োজন।

সময়ের অবহেলার পরিণাম : জীবনের এই সীমাবদ্ধ অবস্থায় দুর্লভ সময়ের যে ভাণ্ডারটুকু পাওয়া যায়, তার সদ্ব্যবহারের মাধ্যমেই জীবন সার্থক এবং সুষময় হয়ে ওঠে। কাজেই জীবনের সংক্ষিপ্ত সীমারেখার মধ্যে যে পরম মূল্যবান সময় আমরা হাতে পাই, সেই দুর্লভ সময় যদি অবহেলা করে, আলস্যভরে কাটিয়ে দেই, তাহলে তা হবে সময়ের নিরেট অপচয় মাত্র।

সময়ের মূল্যবোধের অর্থ : প্রকৃতপক্ষে, সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই জীবনের সাফল্য অর্জনের সোপান। সময়ের মূল্যবোধ হলো, যে সময়ের যে কাজ, তা সেই সময়েই সম্পাদন করা। যে তা করে না, সে করে সময়ের অবমাননা এবং পরাজয় হয় তার জীবনের চরম পরিণতি। সময়ের এই অবহেলার জন্য ভবিষ্যতে তাকে অনুশোচনা করতে হবে। যে কৃষক ফসলের ঋতুতে ফসলের বীজ বপন না করে আলস্যে সময় অতিবাহিত করে, সে কীভাবে ফসল ওঠার সময় খাঁটাপূর্ণ ফসল আশা করতে পারে? সময় চলে গেলে তখন আর কান্নাকাটি করেও লাভ হয় না। মানবজীবনেও সেই একই কথা। জীবনে যখন শক্তি থাকে, সামর্থ্য থাকে, তখন আলস্যে অথবা কালক্ষেপণ করে জীবন কাটালে শেষ বয়সে অবশ্যই দুঃখ ভোগ করতে হয়। তাই সময়ের মূল্যবোধের গুরুত্ব অনেক।

সময়ের অপচয়ের অর্থ : সময়ের মূল্যবোধের অভাবের পিছনে আছে মানুষের আলস্য, উদাসীনতা এবং অদৃশ্য সময়ের নিঃশব্দ অগ্রযাত্রা। সময়কে চোখে দেখা যায় না, তার অনন্ত যাত্রার ঘটনাপ্রবাহ দেখা যায় না। মানুষ তাই মনে করে, সময় বুঝি তার আলস্যের অটল পাহাড়ের মতো স্থির হয়ে আছে। তাই সময় পৃথিবীর অলস, কর্মবিমুখ মানুষদের ফাঁকি দিয়ে তার অনন্ত যাত্রাপথে প্রশান্ত করে। কিন্তু সময় পৃথিবীর সেই অলস, কর্মবিমুখদের আলস্য এবং কর্মবিমুখতাকে ক্ষমা করে না। সে তাদের কপালে দুঃসময় ভবিষ্যতের অভিশাপ এঁকে দিয়ে প্রশান্ত করে।

সময়ের সদ্ব্যবহার : শৈশবেই কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতিপর্ব। এ সময়ই জীবনের প্রস্তুতির কাল। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সকল দায়িত্বভার বহনের যোগ্যতা এ সময়েই অর্জন করতে হয়। শৈশবকালের প্রতিটি মুহূর্তকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে এবং অমূল্য সময়ের অপচয় না করে তার প্রতিটি দুর্লভ মুহূর্তকে জীবনক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে পরবর্তীকালে সুখ ও শান্তি দুই-ই পাওয়া যাবে। কাজেই সময়ের পরিমাপের একমাত্র মাপকাঠি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কে কত মহৎ এবং মূল্যবান কাজ সম্পন্ন করতে পারে, তা দিয়েই তার সাফল্য বিবেচিত হয়। তাই সময়ানুবর্তিতা জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি এবং সময়ানুবর্তিতার মাধ্যমেই কল্যাণপ্রাপ্ত কর্মে জীবনের চরম সার্থকতা।

উপসংহার : সময়ের অপচয় একটি বড় অপরাধ। যারা সময় নষ্ট করে তারা জীবনে উন্নতি করতে পারে না। সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই ব্যক্তি এবং জাতীয় জীবনের সাফল্যের সোপান। যেহেতু সময় জীবনের সমস্ত সাফল্য ও সুখের উৎস, তাই প্রত্যেককে সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং তার সদ্ব্যবহার করা উচিত। তবেই জাতি পাবে গতি, দেশ হবে সমৃদ্ধ, জীবন হবে আনন্দময়।

আরো দেখুনঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা

সময়ানুবর্তিতা রচনা – এসএসসি, এইচএসসি

সংকেত : ভূমিকা, সময়ের গুরুত্ব, সময়ের চলমানতা, মানবজীবন ও সময়, সময়ানুবর্তিতার দৃষ্টান্ত, মানুষের কর্তব্য, সময়ের যথাযথ ব্যবহার, সময় অবহেলার পরিণাম, ছাত্রজীবনে সময়ের গুরুত্ব, উপসংহার।

ভূমিকা :
মানুষের জীবনে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সম্পদ সময়। কোনো সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপরই মানুষের জীবনের সাফল্য নির্ভর করে। একজন মানুষ সময়কে যেমন মূল্যায়ন করবে সে তেমনই ফল পাবে। তাই সময়ের কাজ সময়ে করাই ভালো। একবার যে সময় অতীত হয়ে যাবে সে সময় আর কখনো ফিরে আসবে না। সময়কে মূল্যায়ন করতে হবে সর্বকিছুর ঊর্ধ্বে। সময়ের সদ্ব্যবহারই পারে আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনকে স্মরণীয় করে রাখতে। তাই ছন্দময় ও গতিময় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে MK Ghandi বলেছেন,-

‘Time is life, Life is time. Balance between life and time can help one reach the highest apex of success.’

সময়ের গুরুত্ব :
একটি পরিচিত প্রবাদ হলো, ‘Time and tide wait for none.’ সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। মানুষের আয়ু বা জীবনকাল সীমিত। কিন্তু মানুষকে এই সীমাবদ্ধ জীবনে অনেক কাজ, অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই প্রতিটি মুহূর্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। এই মূল্যবান সময় বা মুহূর্তকে যথাযথভাবে কাজে না লাগিয়ে হেলায় অতিবাহিত করলে জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। পরবর্তীকালে এই ক্ষতির জন্য আফসোস করা যায় কিন্তু সেই সময়কে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বা সময়ের মূল্য অপরিসীম। কোনো পার্থিব সম্পদের মাধ্যমে সময়ের মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সময়ের সদ্ব্যবহার করা উচিত।

সময়ের চলমানতা :
অনাদিকাল থেকে অনন্তের পথে আপন বেগে ছুটে চলেছে সময়। সময়ের ছুটে চলার মধ্যে কোনো বাধা নেই, নেই কোনো অবকাশ। নিরবচ্ছিন্ন ছুটে চলার জন্যই সময়ের মূল্য অপরিসীম, অনন্য। কোনো কিছুর বিনিময়ে তাকে এক মুহূর্তের জন্য স্থির করা যায় না। আপন বেগে ধেয়ে চলে সময়। মূল্যবান মানুষের ধ্যানজ্ঞানসহ যে বেগে চলতে পারে সেই চিরস্থায়ী হয়ে থাকতে পারে এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে। সময়কে হাতে পেয়ে অবহেলায় জীবন কাটালে জীবনে সার্থকতা অর্জন করা যায় না। হারানো সময় কখনো ফিরে আসে না। সময় স্রোতের মতো কেবল এগিয়ে চলে, কখনো থামে না।

মানবজীবন ও সময় :
জীবনকে সার্থক ও পরিপূর্ণ করতে হলে সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। মানুষের আয়ুষ্কাল সীমিত, অথচ তার সামনে বিশাল কর্মক্ষেত্র। কাজেই এই সীমিত সময়ের মধ্যে তাকে সমুদয় কর্ম সুচারুভাবে সম্পাদন করতে হবে। কঠোর বা কর্মব্যস্ত জীবন আসন্ন ও নির্ধারক। মানুষের খাওয়া, পড়া, শোয়া, ঘুম প্রভৃতির যেমন নির্দিষ্ট সময় আছে তেমনি অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্যও সময়কে ভাগ করে নেওয়া দরকার। জীবনের লক্ষ্য স্থির করে কর্তব্য অনুযায়ী সময়কে ভাগ করে জীবনে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। এলোমেলোভাবে কাজ করলে কিংবা লক্ষ্যহীনভাবে কাজ করলে কোনো কাজেই সাফল্য আসে না। এতে সময়ের অপচয় হয়।

কাজেই সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হলে জীবনের লক্ষ্য বা কাজের লক্ষ্য আগে নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পাদন করার জন্য যত্নবান হতে হবে। আমরা সময়ের মূল্য বুঝি না বলেই সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারি না। ফলে বহু মূল্যবান সময় অপচয় হয়ে যায়। মানুষের জীবনে সাফল্যের মাপকাঠি সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতনতার ওপর নির্ভর করে। মহাপুরুষ ও বিখ্যাত মনীষী কিংবা পৃথিবীর খ্যাতিমান ব্যক্তিদের জীবনী পড়লে দেখা যায়, তারা যে সময়ে যে কাজটা করা প্রয়োজন মনে করেছেন, ঠিক সেই সময়েই সেটা করেছেন। আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখেননি।

সময়নিষ্ঠতার দৃষ্টান্ত :
হারিয়ে যাওয়া ধন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু হারানো সময় আর ফিরে পাওয়া যায় না। কাজেই সময়কে কাজে লাগাতে হবে। সময় যেন এক সম্পদ, আর মানুষ যেন একজন কৃষক। মানুষ ইচ্ছা করলে এই ক্ষেত্রে মহামূল্যবান সম্পদ সৃষ্টি করতে পারে। আবার অবহেলা করলে এই মূল্যবান ক্ষেত অনাবাদি পড়ে থাকে। তখন জীবনে হয় ব্যর্থ। অথচ আমাদের এ সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। সময়ের কাজে সময়ের কাজ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অথচ ইংল্যান্ড, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশের মানুষ সময়ের সদ্ব্যবহার করার ফলে আজ উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে। জাতিগুলো সময়ের মূল্য বুঝে আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিসমূহের মধ্যে অন্যতম হয়েছে। ইংরেজরা সময়নিষ্ঠতা বলে পৃথিবী শাসন করেছিল। অথচ বাঙালি কাজ পায় না। আলস্যপরবশ হয়ে কত মূল্যবান সময় হেলায় অতিবাহিত করে।

মানুষের কর্তব্য :
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও কর্মক্ষেত্রে তার জীবনের গৌরব চিরস্থায়ী হয়। তখন মানুষ মরে বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে। মানুষের সামনে অফুরন্ত শিক্ষাক্ষেত্র এবং বিশাল কর্মক্ষেত্র রয়েছে। মানুষ যদি সময়ের অপচয় না করে প্রতিটি সম্ভাবনাময় মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে সার্থক করে তুলতে পারে, তাহলে তার ক্ষণস্থায়ী জীবন জ্ঞান ও কর্মের মহিমায় অনন্তকাল ধরে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। এজন্য একটি ক্ষুদ্র মুহূর্তও অপচয় না করে যথাসময়ে কাজ করে নিজেকে চিরস্মরণীয় করতে হবে।

সময়ের যথাযথ ব্যবহার :
ক্ষণস্থায়ী জীবন নিয়ে মানুষ পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু সামনে বিশাল এক কর্মক্ষেত্র। সার্থক জীবনে বিশাল কর্মক্ষেত্রে পা দিতে প্রয়োজন সময়ের যথাযথ ব্যবহার ও কর্ম সম্পাদনের পরিকল্পনা। অন্যথায় জীবন ফুরিয়ে যাবে কিন্তু কর্ম ফুরাবে না। সুতরাং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। আর তাই প্রথমে জীবনের লক্ষ্য স্থির করে সময় ভাগ করে নিতে হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এলোমেলোভাবে কাজ করলে কখনো লক্ষ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে না। প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। তবেই জীবনে সাফল্য আসবে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে। সময়কে মূল্য দিয়ে ক্ষণস্থায়ী জীবনকে অর্থবহ মহিমা দান করা যায়।

সময়ের অবহেলার পরিণাম :
পৃথিবীতে যারা নির্দিষ্ট তারিখে আলস্য জীবনযাপন করে, তারা অন্যান্য সম্পদকে মূল্যায়ন করতে জানে না। মানবজীবন সামান্য সময়ের গণ্ডিতে বাঁধা। সময়ের সামান্য সুযোগ চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না। প্রকৃতি প্রবাদে বলে, ‘সময়ের একফোঁড়, অসময়ের দশফোঁড়’। তাই সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। সময়কে অবহেলা করলে ব্যর্থতা মানুষকে ঘিরে ধরবে, জীবনের সমস্ত সুখ কল্পনা থেকে যাবে। অনুশোচনা আর ব্যর্থতার সময়ে ডুবে মরবে আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো। সময়কে অবহেলা করা মানে সুন্দর কল্যাণকে ধ্বংস করা। তাই সময়কে অবহেলা না করাই শ্রেয়।

ছাত্রজীবনে সময়ের গুরুত্ব :
ছাত্রজীবন মধুর জীবন, ছাত্রজীবন সুখের জীবন। মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ছাত্রজীবন। এ সময় মানুষের জীবনের চালিকাশক্তি, ভিত্তিভূমি। ছাত্রজীবনে সাফল্যের সোপান তৈরি করার সুযোগ আসে। তাই এই সময়কে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের ভিত্তি প্রস্তুত করতে হয়। এ জীবনে যে সময়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে সেই ভবিষ্যতে গৌরবময় ভূমিকা রাখতে পারবে। যে এ জীবনে অবহেলা করবে তার ভবিষ্যৎ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

উপসংহার :
জীবনে সাফল্য অর্জন করতে হলে সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশ্বের উন্নত জাতি কিংবা দেশসমূহের উন্নতির মূলে রয়েছে সময় জ্ঞানের সচেতনতা। তাদের কাছে পার্থিব সম্পদের চেয়ে সময় অধিক মূল্যবান বলেই তারা সম্পদে, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে উন্নতির উচ্চশিখরে আরোহণ করেছে। পক্ষান্তরে, আমরা বাঙালিরা সময়ের মূল্য বুঝি না বলেই দুঃখ-দুর্দশা আমাদের নিত্যসঙ্গী। আমরা আজ পৃথিবীর দরিদ্র জাতি ও দেশ হিসেবে পরিচিত। কাজেই ব্যক্তিগত এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে সাফল্য আনতে হলে সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তাই আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার ছাত্রদের সময়ানুবর্তিতা মেনে চলা একান্ত আবশ্যক। সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন হলে জীবন সাফল্যের আনন্দে ভরপুর ও রসময় হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top