সময়ের মূল্য রচনা যা ক্লাস ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, এসএসসি, এইচএসসি শিক্ষার্থীর জন্য লেখা হয়েছে। আমরা ১৫ ও ২০ পয়েন্ট অনুসারে দুইটা নমুনা লিখেছি, তোমাদের প্রয়োজন মত যেকোন একটা আয়ত্ত করে নাও। তাহলে এখনি পড়া আরম্ভ করে দাও।
| পোস্টের বিষয়বস্তু | রচনা লিখন |
| রচনার টপিক | সময়ের মূল্য |
| প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহ | ক্লাস ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, এসএসসি, এইচএসসি |
| নমুনা দেয়া হয়েছে | ২টি |
সময়ের মূল্য রচনা – ১৫ পয়েন্ট
ভূমিকা : সময় বয়ে চলে। কোন আদিকাল থেকে কোন অনন্তের পথে তার এ গতি তা নির্ণয় করা কঠিন। তবে তা সত্য যে কালের অগণিত পথে আমাদের জীবন চলছে তবেই। সময়ের যে অংশটুকু পিছনে চলে গেল সে কি ফিরে আসে? কখনো আসে না। এটিই সময়ের ধর্ম। এমন অনেক জিনিস আছে যা ধন-রত্নের বিনিময়ে, শ্রম ও সাধনার বিনিময়ে অথবা অন্য কোন উপায়ে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু সময় একবার হারিয়ে গেলে রাশি রাশি ধন অথবা অস্কর সাধনা দিয়েও আর ফিরে পাওয়া যায় না।
সময়ের মূল্য : আমাদের এ জীবন সৃষ্টির সর্বোচ্চ দান। আমরা ভালবাসি আমাদের জীবনকে। তাই এ পৃথিবীতে বেঁচে যেতে চাই জীবনের স্বার্থে। এজন্য যে প্রচেষ্টা, ধ্যান-ধারণা আবশ্যক তার মধ্যে সময়কে কাজে লাগানোই শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। জ্ঞানী যারা তারা সময়ের প্রস্তর থেকে প্রতি মুহূর্তে কুড়িয়ে নেয় অমূল্য মণিমুক্তা, সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলে নিজেদের অপার ঐশ্বর্য। কেবলমাত্র বোকারাই বলে সময় নেই, সুযোগ নেই, কিছুই হলো না। সময়কে কাজে লাগিয়ে কেউ কিছু পায়নি এমন নজির নেই। সময় থাকতেই জীবনের লক্ষ্য অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়, অনুসরণ করতে হয়। তাহলে সে মানুষটি একদিন সুন্দর সকালে নিশ্চয় দেখতে পাবে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। এখন যা করা দরকার এখনই তা করতে হবে। এটিই মনীষী-বাক্য। ফ্রাঙ্কলিনের মতে, “যা তুমি আজ করতে পার তা কখনো কালকের জন্য ফেলে রাখবে না।”
জীবন ও সময় : আমরা সবাই বলি সময় চলে যায়। বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, সময় যায় না, আমরাই যাই। যেমন—চলমান ট্রেন। প্রকৃতি যায় না, ট্রেনটাই যায়। জীবনের শুরু থেকে আমাদের এই ধারণা গতি। গতির স্রোত হারিয়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই জীবন সাধনার ফলকে মাইলস্টোন হিসেবে রেখে যেতে হয় এবং এজন্য চাই সময়ের সদ্ব্যবহার। মানবজীবন স্বল্প নয়।
দীর্ঘতা দিয়ে জীবনের বিচার হয় না। জীবনের বিচার তার সাফল্যের মাপকাঠিতে। হাজার বছরের নিষ্ফল জীবনের চেয়ে স্বল্পকালীন সোনালী ফসলের জীবন অতি উত্তম। সোনার ফসলে জীবনকে ভরতে হলে প্রতি ক্ষণ, পদ ও মুহূর্তগুলোকে চাষ করতে হবে। ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না। মুখরাই কেবল ঘুমিয়ে জীবন কাটাতে পারে। একটি প্রাণীর জীবনের চেয়ে তার জীবনের মূল্য বেশি কিছু নয়।
মানব-জীবন কি তাই? মানুষ যদি সৃষ্টির সেরা হয় তবে তাকে শ্রেষ্ঠের উদাহরণ স্থাপন করতে হবে। এ জন্যই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মধারা ও দায়িত্বের ভার। শৈশবকাল থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একটি রুটিন আছে। সময়সীমার মধ্যে প্রতিটি কাজকে শেষ করতে না পারলে তা জমে যাবে, জীবনে বিশৃঙ্খলা আসবে, তখন ভারী বোঝা বয়ে নেওয়া কঠিন। মাবা দরিয়ায় হাল ভেঙে মারি তখনই বলে, ‘সময় হলো না’। এটি সময়ের দোষ? নিশ্চয়ই না। সময় থাকতে সময়ের মূল্য দেওয়া হয়নি বলেই এ দুর্দশা। জীবনের অনেক কাজ বাকি রেখে তাকে বিদায় নিতে হয়।
উপসংহার : সময়ের মূল্য সম্পর্কে নিজেকে অবহিত করা এবং রুটিন অনুযায়ী প্রতিটি কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হওয়ার প্রকৃত সময় ছাত্রজীবন। খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, কাজকর্ম, বিশ্রাম সব কিছুই নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করা আবশ্যক। নিজের আদর্শ ও অভিরুচি অনুযায়ী জীবনের লক্ষ্য সাধনের প্রতিটি সিঁড়ি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পার হওয়া উচিত। তাছাড়া, জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করা, মানুষের ভাল কাজে এগিয়ে যাওয়া, নিজের সৃজনশীল মনকে প্রতিষ্ঠা করা, সেবা ধর্ম পালন করা, পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির প্রতি কর্তব্য পালন করা, সর্বোপরি জীবন দিয়ে একটি ভালোবাসার পৃথিবী গড়ে যাওয়াই জীবনের লক্ষ্য। ব্যক্তিগত এবং জাতীয় জীবনে এতগুলো কাজ করতে হলে সময়কে কাজে লাগাতেই হবে।
আরো পড়ুন- শীতের সকাল রচনা
সময়ের মূল্য রচনা – ২০ পয়েন্ট
ভূমিকা : সময় এক গতিশীল প্রবাহ। অনন্তকাল ধরে কেবলই বয়ে চলেছে, বয়ে চলবে অনন্তকাল। মহাকালের তুলনায় জীবন খুবই ক্ষুদ্র। কিন্তু সময়ের সদ্ব্যবহার করে এ জীবনকেই করে তোলা যায় সমৃদ্ধ, প্রশান্তিময় ও অমর।
জীবনের জন্য সময়ের সদ্ব্যবহার : মহাকালের অতি ক্ষুদ্র সময় এক-একজন মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। এ ক্ষুদ্র সময়কে কাজে লাগিয়ে অমর কীর্তি রেখে যাওয়াই মানুষের ব্রত যা তাকে অমরতা দান করে। তাই সময়ের অপব্যবহার করা অনুচিত। জীবনকে সময়ের ছন্দে বেঁধে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাজে, চিন্তা ও চেতনায় সময়ানুবর্তী হতে হবে। কারণ সময় অনন্ত, জীবন সীমাবদ্ধ। জন্ম ও মৃত্যুর সন্ধানে জীবন সদা সঙ্কুচিত হচ্ছে। জন্মের পরমুহূর্ত থেকেই জীবন কমতে কমতে এগিয়ে যায় মৃত্যুর দিকে। জীবনের এই সীমাবদ্ধতার জন্যই সময় এত মূল্যবান।
সময়ের মূল্যবোধের অর্থ : সময়ের মূল্যবোধ হলো, যে সময়ের কাজ তা সে সময়ে সম্পাদন করা। যে সময়মতো তা করে না, পরাজয় হয় তার জীবনের ভাগ্যলিপি। যেমন ফসলের ঋতুতে বীজ বপন না করে ফসল ওঠার সময় বীজ বপন করলে উদ্দেশ্য সফল হবে না। তেমনি জীবনে যখন শক্তি, সামর্থ্য থাকে তখনই সৃষ্টিশীল কাজ করা উচিত।
সময় অনন্ত : সময়ের চলমানতার জন্যই তা মানবজীবনের অনন্য সম্পদ, যা মানুষের ক্রিয়াশক্তির উৎস। সব লোভ-প্রলোভন অবহেলা করে সময় তার ইচ্ছায় বয়ে যায়। কোনো কিছুর প্রতি আসক্তি নেই, নেই সামান্য আকর্ষণ। শুধু চলা আর চলা। এই নিরব চলার জন্যই সময় এত কষ্টিপাথর, এত মূল্যবান। সময়ের সদ্ব্যবহার জীবনেই সদ্ব্যবহার। কিন্তু মানুষ সময়কে কাজে লাগিয়ে জীবনকেই কাজে লাগায়। কারণ জীবনের একটি উদ্দেশ্য আছে। সতর্কতা, সচেতনতা, সহকারিতা ইত্যাদির মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি মূল্যবান মুহূর্তের মূল্যায়ন উচিত, কাজে লাগানো উচিত। তাই তো চেষ্টার ফ্রেমে কেটে ধ্বনিত হয়-
“প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাও এবং
উপভোগ কর। যখনই যা আজ করতে পার তা কালকের জন্য তুলে রেখো না।”
সময় অপচয়ের পরিণতি : আলস্য, অনিয়মিততা, পরশ্রীকাতরতা, উদাসীনতা, ঘুমকাতরতা ইত্যাদি বদঅভ্যাসের দরুন সময় নষ্ট হয়। এই অমূল্য সময় নষ্টের ফলে জীবনে যা করতে চাওয়া হয় তা করতে পারা যায় না। এই চরম পরিণতি দেখে যে কেউ দুঃখ প্রকাশ করবেন, হতাশ হবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের অপচয় করলে সেটা ফিরে পাওয়া যাবে না। জীবন মূল্যহীন মনে হলে জীবন বিসর্জন দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এটা খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক।
সময়ের বর্তমান মূল্য : একটি নির্দিষ্ট রুটিন বা তালিকা তৈরি করে প্রতিদিন সময়ের সদ্ব্যবহার করা উচিত। বিজ্ঞানের দ্রুত উন্নতি ও প্রযুক্তি তৈরির ফলে সময়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ সময়ের কাজ অল্প সময়ে সম্পন্ন করা যায় এবং বেঁচে যাওয়া সময় অন্য কাজে লাগানো যায়। তাই বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয়। কাজেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে।
ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য : যে ছাত্র বছরের প্রথম থেকেই বিষয়ভিত্তিক অধ্যবসায় দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায়, সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহন তার জন্য সহজতর হয়। তিল তিল করে সময়ের সদ্ব্যবহার করলে সাফল্য অবধারিত।
বাংলাদেশে সময়ের মূল্যবোধ : বাংলাদেশে সময়ের মূল্যবোধ সম্পর্কে এখনও সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। ফলে জাতীয় জীবনে এখনও গতি ফিরে আসেনি। কর্মে আমরা গতিহীন। শিক্ষাজীবনসহ জাতীয় জীবন হয়ে পড়েছে পঙ্গু। দেশটা যেন চলছে কচ্ছপের মতো ধীরগতিতে, যা কাঙ্ক্ষিত নয়। কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলতে হবে।
মনীষীদের সময়ের সদ্ব্যবহার : বিজ্ঞানী, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, দেশপ্রেমিক, সাধক-তপস্বী-সবাই সময়ের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। সময়ের সদ্ব্যবহার জানতেন বলেই বিদ্যুৎ রাজ্যের জনক মাইকেল ফ্যারাডে অবসর সময়ে গিয়ে কীতিমান বিজ্ঞানীদের বক্তৃতা শুনতেন। বিশ্বনন্দিত সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গর্কি রেল স্টেশনে কুলি বা দোকানে বয়ের কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে গ্রন্থাগারে গিয়ে ভালো ভালো বই পড়তেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পথের লাইট পোস্টের আলোয় লেখাপড়া করতেন। সময়ের সদ্ব্যবহার করে নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বল্পসময়ের জীবনে অনেক অমর লেখা পৃথিবীতে রেখে গেছেন। তেমনি কাজী নজরুল ইসলামও। তাঁরা করব-করবই করে কোনো কাজে বিলম্ব করেননি। কাজেই দেখা যাচ্ছে, মহামনীষীরা সময়ের মূল্য দিতে জানতেন। আর সেজন্যই তাঁরা বিশ্বখ্যাত হয়েছেন, অমরত্ব লাভ করেছেন।
উপসংহার : সময়ের যথার্থ মূল্যায়নই ব্যক্তি তথা জাতীয় জীবনের উন্নতি ও সাফল্যের সিঁড়ি। সময় মহামূল্যবান। কাজেই সামান্য সময় নষ্ট না করে এর যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই দেশ সমৃদ্ধ হবে, জীবনে আসবে পূর্ণতা, আর জীবন হবে আনন্দপূর্ণ।



