বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা – ক্লাস ৬,৭,৮, এসএসসি, এইচএসসি

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা যা ক্লাস ৬,৭,৮,৯,১০, এসএসসি এবং এইচএসসি শ্রেণির জন্য উপযোগী। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা, যাদের প্রয়োজন দেখতে পার। আমরা মোট দুইটা ভ্যারিয়েন্ট লিখেছি, একটি খুবই সহজ আর আরেকটি কিছুটা বড়। তোমাদের সকল ধরণের পরীক্ষার জন্যই উপযোগী করে লেখা। পড়া শুরু করে দাও-

পোস্টের বিষয়বস্তুরচনা লিখন
রচনার টপিকবাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ
প্রযোজ্য শ্রেণিসমূহক্লাস ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, এসএসসি, এইচএসসি
নমুনা দেয়া হয়েছে২টি

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা (সহজ)

ভূমিকা : বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মূল কারণ। ফলে বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশে সাধারণত যে সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়, তা নিম্নরূপ-

১. বন্যা : প্রায় প্রতিবছর বাংলাদেশে বন্যা দেখা দেয়। তবে স্মরণকালের সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষয়ক্ষতিসম্পন্ন বন্যা হয়েছে ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে। বন্যা বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং এর ফলে বাংলাদেশের জীবন ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

২. ঘূর্ণিঝড় : ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী। প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রচণ্ড আকারে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায় এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি করে।

৩. শিলাবৃষ্টি : বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন প্রকার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

৪. টর্নেডো : বাংলাদেশে প্রায় বছরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডো আঘাত হানে। ফলে এতে জনজীবন, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

৫. সাইক্লোন : বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় প্রতিবছরই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ১৯৭০ সালের সাইক্লোনে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ এবং ১৯৯১ সালের সাইক্লোনে প্রায় দেড় লক্ষ লোক প্রাণ হারায়। তাছাড়া ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়।

৬. লবণাক্ততা : সমুদ্র উপকূলীয় জমিতে প্রায় সময়ই লবণাক্ততা দেখা দেওয়ার ফলে ব্যাপকভাবে ফসলের ক্ষতি হয়।

৭. ভূমিকম্প : বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছর ভূমিকম্প দেখা দেয়। এতে কিছু পরিমাণে জনজীবন ও দালানকোঠাসহ ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়।

৮. নদীভাঙন : বাংলাদেশের অনেক এলাকা নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন- পদ্মার তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী লোকেরা নদীভাঙনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে সর্বস্ব হারিয়ে রাজধানীতে নামতে বাধ্য হয়।

৯. খরা : বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছর খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। যে বছর খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয় সে বছর প্রায় সর্বক্ষেত্রেই ফসলের ক্ষতিসাধিত হয়ে থাকে।

১০. অতিবৃষ্টি : বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই অতিবৃষ্টি দেখা দেয়। অতিবৃষ্টির ফলে জমি পানিতে ডুবে যায়, কিংবা জমি থেকে পানি নিষ্কাশন দেরিতে হয়। ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে।

দুর্যোগ মোকাবিলার ভালো উপায়: নিম্নলিখিত উপায়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহজে মোকাবিলা করা যেতে পারে-

১. দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা।
২. দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গঠন করা।
৩. জাতীয় ভিত্তিতে দুর্যোগ মোকাবিলা করার নীতিমালা, পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করা।
৪. জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা।
৫. দুর্যোগ ঘটার পর দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও চাহিদা নিরূপণের ব্যবস্থা করা।
৬. প্রতিটি এলাকার জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরীক্ষিত দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো।
৭. সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সুদৃঢ় ও কার্যকর করা।
৮. তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থাকে উন্নত করা।
৯. দুর্গমপূর্ণ এলাকাতে আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা।
১০. বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগানো।
১১. সরকারি–বেসরকারি সংস্থা এবং আধা সরকারি সংস্থা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে কাজ করার সুযোগদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১২. শিক্ষার মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি।

উপসংহার : সৌভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে এ সকল কর্মসূচি প্রণীত হয়েছে। ফলে আগামী দিনে আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলার সময়োপযোগী প্রযুক্তি গ্রহণে সক্ষম হতে পারব।

আরে দেখতে পার-

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা (এডভান্স)

সংকেত : ভূমিকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ, বন্যা, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি বা খরা, নদী ভাঙন, ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের উপায় বা দুর্যোগ মোকাবিলা করার উপায়, উপসংহার।

ভূমিকা : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী। প্রায় প্রতিবছর কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে দেয়। যেসব ঘটনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারাকে ব্যাহত করে, মানুষের সম্পদ ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে এবং যার জন্য আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যক্তিসম্মত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হয় তাদের দুর্যোগ বলে। আর প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট দুর্যোগকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ : পরিবেশ দূষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বহু দেশে সৃষ্টি হচ্ছে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ জলবায়ু পরিবর্তন প্রাকৃতিক কারণে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ পরিবর্তন হচ্ছে মানব সৃষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো। এদের অতিভোগবিলাসিতা ও যন্ত্রনির্ভরশীলতার জন্য পৃথিবীতে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এসব দেশের কলকারখানা ও গাড়ি থেকে অতিমাত্রায় কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা। তাতে মেরু অঞ্চল ও বিভিন্ন পর্বতে জমে থাকা বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সমুদ্র ও নদীর কর্ষণ বাড়ছে। ফলে নদী ও সমুদ্রের উপকূলে ভাঙনের হারও বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের বেশিরভাগ নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। পলি জমে বেশকিছু নদী দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। দেশের প্রধান নদীগুলো বিভিন্ন স্থানে এসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার মাধ্যমে হিমালয় থেকে ভারী হয়ে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানি এলেও এগুলোর প্রবাহধারা অনেকটা কমে গেছে। ব্রহ্মপুত্রের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পদ্মা বুকেও বিভিন্ন স্থানে চর পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফারাক্কার প্রভাবে গত তিন দশকে বাংলাদেশের ৮০টি নদীর ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এক সময়ের খরস্রোতা নদী হিসেবে পরিচিত দেশের ১৭টি নদী মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। আরও ৮টি নদী মৃতপ্রায়। এসব নদী ড্রেজিং করে সচল করারও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে বর্ষাকালে নদীর উপচে পড়া পানি প্লাবিত করে ফসলের মাঠ, জনবসতি। প্রতি বছরই বন্যা এদেশের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন উজাড় করাও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আরেকটি কারণ। প্রত্যেক দেশের মোট আয়তনের ২৫% বনাঞ্চল থাকা যেখানে প্রয়োজন সেখানে বাংলাদেশে সরকারি হিসাব মাত্র ১৬% ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে।

বন্যা : প্রবল বা বর্ষার জলের রূপ হলো বন্যা। বন্যার করাল গ্রাসে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে যায়। অসংখ্য মানুষ ও গৃহপালিত পশু প্রাণ হারায়, ঘর-বাড়ি ও কৃষিফসল বিনষ্ট হয়। বিগত দশক থেকে বন্যা বাংলাদেশের একটি বার্ষিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ১৯৮৫ ও ১৯৯৫ সালের বন্যা মানুষের মনে এখনো বেদীকারূপে বিরাজ করছে। ১৯৮৮ সালের বন্যায় সারা দেশ প্লাবিত হয়েছিল। ১৯৯৮ ও ১৯৮৮ সালের বন্যায় দেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ। এর কারণে ব্যাপক প্রাণহানিসহ ফসল ও সম্পদের প্রচুর ক্ষতি সাধিত হয়। শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয় ১৯৯৮ সালে। এ দীর্ঘস্থায়ী মহাবন্যায় দেশের বহু ক্ষেত্রের ফসল, ঘর-বাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সাম্প্রতিককালে ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ২০০৪ সালের বন্যা। এ বন্যায় দেশের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।

সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস : সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ দুর্যোগ প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে কম-বেশি আঘাত হানে। বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ১৯৭০, ১৯৯১, ২০০৭ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস ছিল খুবই ভয়াবহ। এসব সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসে ১৯৭০ সালে প্রায় ৫ লক্ষ, ১৯৯১ সালে প্রায় দেড় লক্ষ এবং ২০০৭ সালে প্রায় লক্ষাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। আক্রান্ত হয় লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ। এ সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়ে যায়, লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সবকিছু। ফলে মানুষ পতিত হয় অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশায়।

অনাবৃষ্টি বা খরা : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের কৃষিব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালিপনার শিকার এদেশে প্রায় প্রতি বছরই অনাবৃষ্টি বা খরার মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পতিত হয়। খরার প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যায়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সংঘটিত খরার প্রকোপে ব্যাপক ফসলহানিসহ জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। খরার দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ফলে দেখা দেয় খাদ্যাভাব ও বিভিন্ন রোগ-শোক।

নদী ভাঙন : নদীমাতৃক বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে গেছে হাজারো ছোট-বড় নদী। নদীর ধর্মই হলো-এপার ভাঙে ওপার গড়ে। কিন্তু নদীর এ সর্বনাশা ভাঙন এক মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতি বছরই এদেশের প্রচুর সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ দুর্যোগের কবলে পড়ে এদেশের বহু লোককে তাদের ঘর-বাড়ি, ধন-সম্পদ হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবনযাপন করতে হয়।

ভূমিকম্প : প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক ভয়াবহ রূপ হলো ভূমিকম্প। বিভিন্ন কারণে এদেশে মাঝে মাঝে ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে অন্যান্য বছরের মতো ভূমিকম্প আঘাত হানলেও ২০১৫ সালের ভূমিকম্প ছিল ভয়াবহ। একই সালে কয়েকবার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় দালানকোঠা ধ্বসে যাওয়া, নানা ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। যদি ভূমিকম্পের মাত্রা বাড়ে তাহলে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট ভেঙে পড়ে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ জানমালের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ভূ-তাত্ত্বিকরা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের উপায় বা দুর্যোগ মোকাবিলা করার উপায় : বিশ্বের সকল বিজ্ঞানী একমত যে, জলবায়ু দূষণের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে গেছে। জলবায়ু দূষণের ক্ষেত্রে পৃথিবীর শিল্পোন্নত দেশগুলোর ভূমিকা বেশি। বাংলাদেশসহ দরিদ্র দেশগুলোর দায় অনেক কম, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। কাজেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে বা একে মোকাবিলা করতে হলে সারা বিশ্বকে একযোগে উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলো রক্ষার জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাহায্য দিতে হবে। তা দিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো উপকূলে উঁচু বাঁধ নির্মাণ করবে এবং বাঁধের ওপর ও আশপাশে ব্যাপক বনায়ন করে সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে অনেকটা প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।

পৃথিবীর সব দেশ বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশগুলো যদি সমঝোতার মাধ্যমে অন্তত ১০/১৫ বছর গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করে তাহলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে। গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে হলে জ্বালানি পোড়ানো কমাতে হবে। উন্নত বিকল্প কার্বন কন্টেন্ট বানাতে হবে। জলবায়ু দূষণ হ্রাসে শিল্পকারখানার মালিক ও জনগণকে সচেতন হতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে বলিষ্ঠ উদ্যোগ নিতে হবে। কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে না ফেলে পরিশোধন করে ফেলতে হবে। বায়ু দূষণ রোধকল্পে প্রতিটি দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বন থাকা একান্ত আবশ্যক। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৬% বন হলেও প্রকৃতপক্ষে রয়েছে ৯% থেকে ১০%।

পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য ব্যাপকভাবে বনায়ন করতে হবে। বনভূমি উজাড়ের আগে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। কৃষি জমি, জলাশয়, পাহাড় ইত্যাদি ধ্বংস করে বসতবাড়ি বা কলকারখানা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। দেশের ছোট-বড় সকল নদীকে খনন করে সচল রাখতে হবে।

উপসংহার : প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেকোনো দেশের মানুষের জন্য অভিশাপস্বরূপ। এটি কেবলই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার দিকে ঠেলে দেয় জনজীবনকে। বাংলাদেশের মতো একটি সমতল ভূমিতে অবিরত দুর্যোগ সংঘটিত হয়ে এদেশের জাতীয় অর্থনীতিকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে, রুদ্ধ করছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। এ দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে মানুষের কোনো হাত না থাকলেও সরকার এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর মোকাবিলা করার প্রয়াস চালাতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top